নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’: বরগুনায় ৪ শিক্ষার্থীকে ‘নির্যাতনের পর’ পুলিশে সোপর্দ
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির নেতা জালাল উদ্দীন ফকির।
বরগুনার আমতলীতে কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার পর চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছে অভিভাবক ও কলেজ কর্তৃপক্ষ।
তুলে নিয়ে যাওয়ার পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠলেও তাদেরকে ‘বিশেষ আইনের মামলায়’ গ্রেপ্তার দেখানোর কথা বলেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার চারজন মহিষকাটা ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী।
অভিভাবক ও কলেজ কর্তৃপক্ষ এসব শিক্ষার্থীকে ‘তুলে নিয়ে যাওয়ার’ পেছনে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকিরকে দায়ী করেছেন।
কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব তুহিন মৃধা, বরগুনা দ্বিতীয় জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি জসিম উদ্দিন ও আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি মো. মাহবুবুল আলম ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এ ঘটনার ভিডিও অল্প সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের স্বজনরা বলেছেন, ওই ঘটনার জেরে শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাদের অভিযোগ, একই দিন জুমার নামাজের পর চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. তামিম নামে আরও দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়া হয়।
চার শিক্ষার্থীকে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন চালানোর অভিযোগও করেন তারা।
কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল কাজীর বাবা মো. মাহবুব কাজী বলেন, “আমার ছেলেকে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মহিষকাটা থেকে তুলে নিয়ে গেছে। সে বিএনপির পার্টি অফিসে আছে বলে জানতে পেরেছি। পরে শুনেছি, তাদের থানায় দেওয়া হবে।”
ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া বলেন, “বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন, মাহবুবুল আলম ও জালাল ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকিরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা সাইফুল কাজী ও সুজা নামের দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে গেছেন।
“তাদের থানায় না দিয়ে কোথায় রাখা হয়েছে কিংবা তাদের সঙ্গে কী করা হয়েছে, তা আমি জানি না।”
তবে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির।
তিনি বলেন, “দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের নিয়ে এসে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা এবং কার ইন্ধনে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।”
আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইনে মামলা করা হয়েছে। শনিবার তাদের আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হবে।”
