পিরোজপুরে গর্ভের ফুল ’পেটে রেখে’ সেলাই, আদালতে মামলা

‘তাছাড়া নবজাত শিশুর নাড়ি কেটে তা না বেঁধে রাখা হয়। খুলনার চিকিৎসকরা টেস্ট করে এসব তথ্য পান।’

পিরোজপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 August 2022, 01:13 PM
Updated : 2 August 2022, 01:13 PM

পিরোজপুর শহরে এক প্রসূতির অস্ত্রোপচারের সময় পেটের অংশ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কেটে গর্ভের ফুল ভেতরে রেখে সেলাই করার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে।

পিরোজপুরের অতিরিক্তি মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মঙ্গলবার দুপুরে এই মামলা করেন জসিম খান নামে এক ব্যক্তি।

জসিম পিরোজপুর সদর উপজেলার আলামকাঠী এলাকার বাসিন্দা।

বাদীর আইনজীবী এ এস ওমান জানান, মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক মো. ইকবাল মাসুম পিরোজপুরের সিআইডি পুলিশকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবাদীরা হলেন শহরের আইডিয়াল ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমের চিকিৎসক শিকদার মাহমুদ ও ব্যবস্থাপক সঞ্জয় মিস্ত্রি।

আইনজীবী ওমান বলেন, “জসিম খানের স্ত্রী মনিরা বেগমকে (২২) ওই বেসরকারি হাসপাতালে গত ৮ জুলাই ভর্তি করা হয়। ওই দিন দুপুরেই তার অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসক শিকদার মাহমুদ তড়িঘড়ি অস্ত্রোপচার করেন।

“মনিরা বেগমের পেট প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কেটে ফেলেন চিকিৎসক এবং নবজাত শিশুর নাড়ি কেটে তা না বেঁধে রাখেন। এছাড়া প্রসূতির গর্ভের ফুলের অংশ পেটের ভেতরে রেখে অপরিষ্কার অবস্থায় সেলাই করে তিনি চলে যান। এরপর প্রসূতিকে বাড়ি নিয়ে গেলে কয়েক দিন পরেই তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তখন চিকিৎসক শিকদার মাহমুদ প্রসূতিকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনার এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে ১৪ ব্যাগ রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয়। খুলনার চিকিৎসকরা টেস্ট করে জানতে পারেন, গর্ভের ফুল পেটের ভেতরে রেখে অপরিষ্কার অবস্থায় সেলাই করা হয়েছে। মনিরার পেট প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কেটে ফেলা হয়েছে এবং নবজাত শিশুর নাড়ি কেটে তা না বেঁধে রাখা হয়েছে।”

মনিরাকে এখন গুরুতর অবস্থায় খুলনার এক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আইনজীবী ওমান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক