Published : 08 Apr 2026, 06:50 PM
সারাদেশে বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে ৫৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল কেলেঙ্কারির ঘটনায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাফেজ আজিজুল হককে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এই বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি আমাকে পাঠানো হয়েছে।”
চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নজরদারির অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে অবস্থিত বিএনপি নেতা হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন ‘মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনটি’ মঙ্গলবার পরিদর্শন করেন।
এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে প্রাপ্ত চালান ও নথি যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে।
তবে মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশনের ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। গত ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে, বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

তার এই বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও জোরদার হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত ও কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় সার্টিফিকেট সহকারী আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ এনে ব্যবস্থাপক মো. জলিল হোসেন রিফাতকে আসামি করা হয়। পরে জলিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজুল হক বলেন, “তেল মজুদ বা কালোবাজারীর অভিযোগ সঠিক নয়। একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল রাজনৈতিকভাবে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।”
ময়মনসিংহে পাম্পের ৫৮ হাজার লিটার তেল 'উধাও', ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার