Published : 07 Apr 2026, 11:23 PM
জ্বালানি সংকটের মধ্যে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫৮ হাজার লিটার তেল ‘গায়েব’ হওয়ার তথ্য পেয়েছে প্রশাসন। এ ঘটনায় পাম্পের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় ডৌহাখলা ইউনিয়নের ‘মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে’ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় বিষয়টি ধরা পড়ে বলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম নুরুল হুদা মনি জানান।
গৌরীপুর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ এনে ব্যবস্থাপক মো. জলিল হোসেন রিফাতকে (৩০) আসামি করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, অভিযান পরিচালনার সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে প্রাপ্ত চালান ও নথি যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে পাম্পের ব্যবস্থাপক সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে ব্যর্থ হন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ব্যবস্থাপক দাবি করেছেন, ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে, বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই। এই বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও জোরদার হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত এবং কালোবাজারির প্রমাণ মেলে বলে মামলায় বলা হয়েছে।
ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, “জ্বালানি তেল মজুত ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনটি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন।
এ ব্যাপারে জানতে সন্ধ্যায় আজিজুল হকের মোবাইলে ফোন করলে তিনি ধরেননি।