০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালতের হাজতখানায় আওয়ামী লীগ নেতার ‘বেয়াইখানা’, ৫ পুলিশ সদস্য বদলি

নোয়াখালীতে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে বিষয়টি জানাজানি হয়; যা নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা।

আদালতের হাজতখানায় আওয়ামী লীগ নেতার ‘বেয়াইখানা’, ৫ পুলিশ সদস্য বদলি
নোয়াখালী আদালতে নারী হাজতখানার ভেতরে দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‘ভূরিভোজের’ সময় ধারণ করা ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি।

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Jan 2026, 09:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:36 PM

নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার ভেতরে দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‘বেয়াইখানার’ ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হতে পারে বলে বুধবার দুপুরে জানিয়েছেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।

বদলি হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলাম ও কবির আহম্মদ ভূঁইয়া এবং কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন, মো. হাসান ও সাইফুল ইসলাম।

তদন্ত কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনকে প্রধান করা হয়েছে। বাকি দুইজন হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) লিয়াকত আকবর ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পরিদর্শক (ক্রাইম) মো. শাহ আলম। সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, আদালতের হাজতখানায় দুই আসামির পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) টি এম মোশারফ হোসেনের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ওই পাঁচ পুলিশ সদস্যকে হাতিয়া থানার বিভিন্ন ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন।

এর আগে সোমবার দুপুরে আদালতের নারী হাজতখানার ভেতরে ‘ভূরিভোজের’ আয়োজন করা হয়। যেখানে হত্যাসহ একাধিক মামলায় কারাগারে থাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাইফ উদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। তারা সম্পর্কে বেয়াই। এ সময় সেখানে আসামিদের স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন। 

হাজতখানায় দুই বেয়াইয়ের খাওয়া-দাওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত কেউ ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। এ ঘটনার ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে বিষয়টি জানাজানি হয়; যা নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা। এ নিয়ে অনেকেই আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেইসঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এসব আয়োজনে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠে।

জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর যুবলীগ নেতা আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থির সঙ্গে হাতিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের সঙ্গে বিয়ে হয়। তবে দুই বেয়াই একাধিক মামলায় কারাগারে থাকায় বিয়ে অনুষ্ঠানে তারা ছিলেন না। তাই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই বেয়াইর হাজিরার দিন হাজতখানায় তাদের জন্য ‘বেয়াইখানার’ আয়োজন করা হয়।

নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, আদালতে গিয়ে ঘটনাটি শুনেছেন তিনি। তবে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এভাবে হাজতে আসামিদের খাবার খাওয়ানো গুরুতর অন্যায়। আদালতের পুলিশ পরিদর্শকও এর দায় এড়াতে পারেন না।