Published : 22 Jun 2026, 08:14 PM
বাজেট অধিবেশনে অনেক মন্ত্রীর ‘অনুপস্থিতি’ নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে ঢাকা-১২ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, “আমি লক্ষ্য করছি বাজেট অধিবেশনে অধিকাংশ সময় আমাদের মন্ত্রীরা থাকেন না। এটা তো আমরা আসলে এত নোট করে নিয়ে আসি। আমাদের সরকারি দল, বিভিন্ন দল, সকলেই বক্তব্য দেন।
“এইখানে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তারপরে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অনেক মন্ত্রী নাই। মন্ত্রীদের চেয়ার সব খালি। এ ব্যাপারে আপনার সহযোগিতা চাচ্ছি মাননীয় স্পিকার।”
জবাবে স্পিকার বলেন, “বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি দেখতে চাই। শোকর করেন যে, অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন এখানে। কিন্তু অন্য মন্ত্রীদেরও অনুরোধ জানাবেন সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে। বাজেট সেশন গুরুত্বপূর্ণ সেশন, তারা থাকলে আমরা বাধিত হব।”
এ বিষয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “বাস্তবতাটা হলো অনেক মন্ত্রী বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকে, এটা দেখি। তবে সংসদে তাদের আসা উচিত, আসলে ভালো হয়।
“অর্থমন্ত্রী আগাগোড়াই এখানে উপস্থিত আছেন। বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ে যদি কথা বলা হয়, সব শেষ কথা গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলবে। স্বাস্থ্য খাতের কথা বলবেন, বিদ্যুৎ খাতের কথাও বলবেন, পুলিশের কথাও বলবেন, আইনের কথাও বলবেন, সব কথা অর্থমন্ত্রী বলবেন। সে কারণে মাননীয় অর্থমন্ত্রী উপস্থিত থাকেন।
“আমাদের এলজিআরডি মন্ত্রীও সবসময় উপস্থিত থাকেন। অন্যান্য মন্ত্রীও থাকেন। তবে আমি আশা করব, অন্যান্য যেসব মন্ত্রী এখানে উপস্থিত থাকেন না, তারা যেন উপস্থিত থাকেন এবং সংসদকে উপভোগ করেন। বিরোধী বা সরকারি দলের সদস্যরা যেসব কথা বলেন, সেগুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সে সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।”
এ সময় টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “বিরোধী দলের সংসদ সদস্য বললেন, আমাদের মন্ত্রীরা নাই, ঠিক আছে। বলার আগে যদি নিজের দিকে তাকিয়ে বলতেন… সংসদে বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা দুইজনের কেউই নাই। তারাও যাতে ঠিকমত থাকে।”
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার বলেন, “বিরোধী দলের নেতা না থাকলে অসুবিধা নাই, মন্ত্রীদের থাকা প্রয়োজন। তাদের সমস্যা তো মন্ত্রীদের পক্ষেই তারা বলবেন। তবুও সংসদের সৌন্দর্য রক্ষার্থে সকলেরই থাকা বাঞ্ছনীয়।”
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া ও চীনে যাওয়ায় সোমবার সংসদের বৈঠকে মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও অনুপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন।
এ দিন সংসদের বৈঠক বিকাল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা প্রায় পাঁচ মিনিট পরে শুরু হয়। বৈঠকের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন না। বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে অধিবেশনে যোগ দেন।
সোয়া ৩টার দিকে সরকারি দলের প্রথম সারিতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীসহ চারজন সংসদ সদস্যকে দেখা যায়। এ সময় প্রথম তিন সারির ৬৪টি আসনের মধ্যে চিফ হুইপ ও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ ২১ জন উপস্থিত ছিলেন।
বিরোধী দলের প্রথম সারিতে তখন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও উপনেতা আবদুল্লাহ মো. তাহের অনুপস্থিত ছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুর দিকে সরকারি দলের তুলনায় বিরোধী দলের সদস্যদের উপস্থিতি কিছুটা বেশি দেখা যায়। তবে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।