Published : 22 May 2026, 10:33 PM
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় যুবলীগের মিছিলের পরদিন একটি রেস্তোরাঁয় গোপন বৈঠকের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকালে চাষাঢ়ার ‘গ্র্যান্ড হল রেস্টুরেন্ট’ থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান।
আটক ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ না করলেও তারা চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি সাজেদুর বলেন, “আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। প্রাথমিক তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত আজমেরী ওসমানের অনুসারী যুবলীগের কর্মী-সমর্থকরা বৃহস্পতিবার ভোরে শহরের চাষাঢ়ায় মিছিল করেন।
লাল কাপড়ে মুখ ঢেকে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেন মিছিলকারীরা।
এ ঘটনার পরদিন দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছাত্রশিবির, এনসিপি ও তাদের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা চাষাঢ়ার একটি রেস্তোরাঁয় আওয়ামী লীগের ‘গোপন বৈঠক’ চলছে বলে স্ট্যাটাস দেন। এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ‘গ্র্যান্ড হল রেস্টুরেন্টে’ অভিযান চালায় পুলিশ।
পরে সেখান থেকে কয়েকজনকে পুলিশের গাড়িতে তুলে থানার দিকে নিয়ে যেতে দেখেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, “চাষাঢ়ায় মূলত চাঁদপুরের একটি সংগঠনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরাও ছিল।
“চাঁদপুরের এক ভাইয়ের কিছু গ্রুপ ছিল, সেখান থেকেই আমাদের গতকাল (বৃহস্পতিবার) জানানো হয়েছে। পরে আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানাই।”
“জুমার নামাজের পর থেকে আমাদের লোকজন বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ঘোরাঘুরি করে বেলা ৩টার দিকে একটি রেস্টুরেন্টে তাদের দেখতে পাই,” যোগ করেন ছাত্রশিবির নেতা।
শুরুর দিকে জানালেও পুলিশ সেখানে যেতে দেরি করায় ‘বৈঠকে’ থাকা নেতাদের অনেকেই রেস্তোরাঁ থেকে সরে যেতে সক্ষম হন বলে দাবি অমিতের।
সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল বসেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আগেরদিনের মিছিলেও ছিলেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।
যদিও পুলিশ এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি।
পুলিশের অভিযানের সময় সেখানে ছিলেন এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান। তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপনে বৈঠকের চেষ্টা করেছিলেন।
“এরা যুবলীগের একটি কমিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুল নিয়েও এসেছিলেন। প্রথমে ‘কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে’ যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেছে বুঝতে পেরে তারা স্থান পরিবর্তন করেন।”
“আমাদের রাজনৈতিক সোর্স থেকে জেনেছি। টেকনিক্যালি তথ্যটা প্রথমে ছাত্রশিবিরের কাছে আসে। পরে তারা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে,” যোগ করেন নিরব।
জানতে চাইলে ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, “গোপন বৈঠকের মত কিছু হয়নি। তবে, আমরা সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে নিয়ে এসেছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা নির্দোষ হলে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”