Published : 16 Jul 2026, 08:21 PM
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক প্রবাসীকে পিটিয়ে আহত করার পর ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার পাঁচ দিন পর বুধবার সকালে উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের উত্তর কেরোয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বলে জানান রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন।
আহত আব্দুল মান্নান রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তার মাথার বাম পাশে চারটি ও নাকে তিনটি সেলাই পড়েছে।
এ ঘটনায় মান্নানের ভাই মো. সেলিম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে মান্নানের স্ত্রী, দুই ছেলে ও শ্যালকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা অর্থ সম্পদের লোভে মান্নানের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন- মান্নানের স্ত্রী পারভীন বেগম, ছেলে পারভেজ ও মাহাজ এবং শ্যালক ফয়েজ। তারা উত্তর কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, “মান্নানের সঙ্গে তার স্ত্রী-সন্তানদের অর্থ-সম্পদ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনায় তারা প্রায়ই মান্নানকে ভয়ভীতি দেখাতেন। শুক্রবার রাতে মান্নানকে জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। এতে তার মাথার বাম পাশে ও নাক ফেটে যায়।
“কিন্তু তাকে চিকিৎসা না দিয়ে ঘরেই আটকে রাখা হয়। এর মধ্যে আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে মান্নানকে দেখতে ঘটনাস্থল যান সেলিম। মান্নান ঢাকায় আছেন বলে জানান স্বজনরা। তবে আশপাশের লোকজন জানান মান্নান বাড়িতেই আছেন।”
পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে সেলিম জোর করে ঘরে প্রবেশ করে মান্নানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেলিম বলেন, “বড় ভাই প্রায় ৩০ বছর প্রবাসে ছিলেন। তার অর্থসম্পদ রয়েছে। এর লোভেই স্ত্রী, শ্যালক ও সন্তানরা তাকে পিটিয়ে আহত করেছে। চিকিৎসা না দিয়ে তাকে ঘরেই আটকে রেখেছে। আমি না আসলে তারা ভাইকে মেরে ফেলতো।”
রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”