Published : 28 Jan 2026, 07:56 PM
বাউল সংগীত হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য গড়ার অন্যতম হাতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।
মঙ্গলবার রাতে কোটালীপাড়া উপজেলার জাঠিয়া বোচাই সাধুর আশ্রমে আয়োজিত মহোৎসব ও বাউল উৎসবে তিনি বাউল শিল্পীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এছাড়া নির্বাচিত হলে ঐতিহ্যবাহী আশ্রমটির উন্নয়ন ও ভক্তদের জন্য সুবিধা বৃদ্ধিরও অঙ্গীকার করেছেন।
গোবিন্দ চন্দ্র বলেছেন, “বাউল সংগীত হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য গড়ার অন্যতম কারিগর। বাউল সংগীত হলো মানুষের আত্মার গান, প্রাণের গান-যেখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই। অতীতের দিনে সমাজে কোনো বিভাজন ছিল না।
“তখন বাউলরা অবাধে সারাদেশে ঘুরে বেড়াতে পারতেন। যতদিন বাংলার পথে-প্রান্তরে বাউলদের বিচরণ ছিল, ততদিন হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না।”
দেশের বাউল সংগীতের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, “সারা বাংলাদেশে বাউল সংগীত এখন কঠিন সময় পার করছে। বিভিন্ন জায়গায় বাউল গান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে।
“একজন প্রখ্যাত বাউল শিল্পী এখনো কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এসব ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।”
তিনি বলেন, “আমরা সারাদেশে বাউল শিল্পীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। বাউলদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এবং সংসদে আইন প্রণয়ন করে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের প্রতিরোধ করা হবে। যাতে তারা আইনের ফাঁক গলে পার না পায়।”
জাঠিয়া বোচাই সাধুর আশ্রমের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে এই আশ্রমে আসার রাস্তাটি পাকা করা, যাতে ভক্তরা সহজেই এখানে আসতে পারেন।
ঐতিহ্যবাহী এই আশ্রমটির সার্বিক উন্নয়ন করা হবে এবং সারা বাংলার বাউল শিল্পীরা যাতে এখানে এসে বড় পরিসরে উৎসব করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও করা হবে।”
উৎসব অনুষ্ঠানে আশ্রম কর্তৃপক্ষ, বাউল শিল্পী এবং সহস্রাধিক ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।