Published : 10 Mar 2026, 10:08 PM
টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক গারো পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার পরদিন তাদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে ‘বন্দুকের নলের মুখে’ পরিবারটিকে উচ্ছেদ করেছে বনশিল্প উন্নয়ন সংস্থা (বশিউক) বা রাবার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
সোমবার দুপুরে উপজেলার ধরাটি গ্রামের কালাপাহাড় এলাকায় চাঁদপুর রাবার এস্টেটের বাগানের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা জুবায়ের হোসেন।
উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন চাঁদপুর রাবার এস্টেটের বাগানের ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ আমান।
তিনি বলেন, জলবায়ু ও বন মন্ত্রণালয়ের আওতায় বন বিভাগের দখল হওয়া জায়গা উদ্ধারে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসাবে অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয়রা জানায়, রাবার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের লোকজন ও দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা ওই এলাকায় গিয়ে একটি দরিদ্র গারো পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে। এ সময় আনসার সদস্যদের মারমুখী আচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পরিবারটির সদস্যরা।
ভুক্তভোগী আদিবাসী গারো রমেন কুবি বলেন, বসতবাড়ী সরিয়ে নিতে বনবিভাগ থেকে কোনো লিখিত নোটিশ তাদেরকে জানানো হয়নি।
আশির দশকে মধুপুরের গজারী বন কেটে প্রায় সাত হাজার একর জমিতে রাবার বাগান গড়ে তোলে রাবার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। তবে বর্তমানে সেই বাগানের অনেক জায়গায় কলা ও আনারস চাষ হচ্ছে এবং এর একটি বড় অংশ প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয়রা বলেন, প্রভাবশালীদের দখলে থাকা জমি উদ্ধার করতে না পারলেও দরিদ্র গারো পরিবারকে উচ্ছেদ করায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার পরিবারটির সঙ্গে দেখা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা জুবায়ের হোসেন।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ওই পরিবারকে পুনর্বাসন ও ঘর পুননির্মাণের জন্য দুই বান্ডিল টিন, নগদ ছয় হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং ঘরের খুঁটি বাবদ সমস্ত ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো আদিবাসী পরিবারকে উচ্ছেদ করা যাবে না। তবে আদিবাসী পরিবারের জন্য রাবার বাগানের ম্যানেজার সীমানা নির্ধারণ করে দিবেন।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় মধুপুর থানার ওসিসহ জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের নেতারা ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।