Published : 17 Jul 2025, 05:47 PM
রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুছে ফেলা ম্যুরালের সামনের ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা হচ্ছে।
গত ১৩ জুলাই নগরের সিঅ্যান্ডবি মোড়ে এটির নির্মাণ শুরু হয়েছে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করে ৫ অগাস্ট সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দিতে চায় রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ।
রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, “সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ৬৪ জেলাতেই ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা হচ্ছে। রাজশাহীর স্মৃতিস্তম্ভটির উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ ফুট এবং নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, “স্মৃতিস্তম্ভে রাজশাহীর গেজেটভুক্ত পাঁচজন শহীদের নাম এবং ১৯ জুলাইয়ের ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের জনপ্রিয় স্লোগানগুলো স্থান পাবে।”
স্মৃতিস্তম্ভটি যেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে ঠিক সেই স্থানেই, যেখানে আগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে বঙ্গবন্ধুর একটি বিশাল ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছিল। ৫৮ ফুট উচ্চতা ও ৪০ ফুট প্রস্থের ওই ম্যুরালটির দুই পাশজুরে প্রায় ৭০০ বর্গফুট এলাকাজুড়ে টেরাকোটায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

গত বছরের ৫ অগাস্ট সরকারের পতনের পর সেই ম্যুরালটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিটি সাদা রঙ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, যদিও বাকি অংশ এখনও অক্ষত রয়েছে।
রাজশাহী জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এবং সদ্যঘোষিত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. নাহিদুল ইসলাম বলেন, “এই জায়গাটি প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় সহজেই সবার নজরে আসবে। তাই সবাই এই স্থানকেই উপযুক্ত মনে করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “যদিও স্থানটি কিছুটা বিতর্কিত, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত এখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হচ্ছ। ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি সম্পূর্ণভাবে অপসারণের কথাও চিন্তাভাবনায় রয়েছে।”
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, “জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই জায়গাটি নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা বিকল্প জায়গাগুলোর পর্যালোচনাও করেছিলাম, তবে সর্বসম্মতভাবেই এই স্থানকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।”