“দ্বাদশ শতাব্দীতে মণিপুরি মহারাজা ‘লোইতোংবা’ এর শাসনামলে কাং খেলা উদ্ভাবিত হয়। বলা চলে এটি একটি রাজকীয় খেলা।”
Published : 08 Feb 2025, 10:20 PM
মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী অভ্যন্তরীণ খেলা ‘নিংতম কাং। সময়ের আবর্তে হারিয়ে যাওয়া থেকে বাচাঁতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এ খেলার বার্ষিক টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৯৭ সাল থেকে প্রতিবছরই এ আয়োজন করছে বাংলাদেশ মণিপুরি কাং ফেডারেশন। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুরের নয়াপত্তন গ্রামে কাংশং ঘরে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় ‘নিংতম কাং টুর্নামেন্ট ২০২৫’।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মণিপুরি কাং ফেডারেশনের উপদেষ্টা রাধামোহন সিংহ।
ফেডারেশনের সভাপতি ইবুংহাল সিংহ শ্যামলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি কে মণিন্দ্র সিংহ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিরণ্ময় সিংহ।
ইবুংহাল সিংহ শ্যামল বলেন, “দ্বাদশ শতাব্দীতে মণিপুরি মহারাজা ‘লোইতোংবা’ এর শাসনামলে কাং খেলা উদ্ভাবিত হয়। বলা চলে এটি একটি রাজকীয় খেলা। প্রাচীনকালে এই খেলা ছিল মণিপুরি সম্প্রদায়ের বিনোদনের একটি মাধ্যম। এই খেলার জন্য বড় এক মণ্ডপ ঘরের প্রয়োজন হয়। যে কারণে চাইলেই এটি সব সময় খেলা যায় না।”
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নারেংবম সমরজিত সিংহ জানান, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যেমন মণিপুরি সম্প্রদায় যেমন সমৃদ্ধ তেমনি খেলাধুলায়ও রয়েছে তাদের নিজস্বতা। ‘নিংতম কাং’ তারই একটি।
তিনি বলেন, “একটি বড় ঘরে নির্ধারিত মাপে কোর্ট কেটে দুই পক্ষের মধ্যে এ খেলা হয়। যার এক-এক দলে সাতজন করে খেলোয়াড় থাকেন। বর্তমানে ফাইবার নির্মিত নির্দিষ্ট মাপের কালো রঙের ‘কাং’ নিয়ে খেলা হয়।
“এ খেলায় প্রথমে দাঁড়িয়ে ‘চেকফৈ’ মারতে হয় এবং অপর প্রান্তে বসানো নির্ধারিত টার্গেট দুইবার স্পর্শ করতে পারলেই মূলত ‘লমথা’ মারার যোগ্যতা অর্জিত হয়।
“লমথা যথানিয়মে টার্গেট স্পর্শ করতে পারলে পয়েন্ট অর্জন হয়। আর এক পক্ষ পয়েন্ট অর্জনে ব্যর্থ হলে অপর পক্ষ খেলার সুযোগ পায়। এভাবে খেলা এগিয়ে চলে এবং নির্ধারিত সময়ের শেষে যে দলের পয়েন্ট বেশি হয়, তারাই বিজয়ী হয়।”
কাং ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি কে মণিন্দ্র সিংহ বলেন, “নিংতম কাং একটি প্রাচীন খেলা হলেও এটি শুধু মণিপুরি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বলা চলে ‘কাং খেলা’ মণিপুরিদের অভ্যন্তরীণ খেলা।”
তবে লন্ডন প্রবাসী রবিন্দ্র সিংহ বলেন, “বাংলাদেশের মণিপুরী সম্প্রদায়ের বাইরেও আরও কয়েকটি দেশে এ খেলার প্রচলন এখন ধরে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও মণিপুর রাজ্যেও এই খেলার আয়োজন হয়।
“এ ছাড়া মিয়ানমার-থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশে খেলাটি আয়োজন হয় বলে জানা যায়।”
তবে এটি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামহলে এখনো স্বীকৃতি না পাওয়ায় এটি মনিপুরি সম্প্রদায়ের বাহিরে খুব একটা পরিচিত নয়।
বাংলাদেশ কাং ফেডারেশনের সদস্য নোংমাইথেম অশোক জানান, “আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯৭ সাল থেকে কমলগঞ্জ উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে হয়ে আসছে। এবার মোট ছয়টি দল অংশগ্রহণ করছে।
রাজকুমার সিংহ সৌমেন জানান, এবারের টুর্নামেন্টে প্রথম রাউন্ড হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি ও ১৪ ফেব্রুয়ারি। যার জন্য নির্ধারিত সময় দুই ঘণ্টা করে। আর সেমিফাইনাল হবে ২১ ফেব্রুয়ারি এবং ফাইনাল হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে খেলার সময় ৩ ঘণ্টা করে।
অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।