Published : 05 Jan 2026, 05:12 PM
মরদেহ সৎকারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক বৃদ্ধার মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেছে পরিবারসহ স্থানীয় লোকজন।
সোমবার সকালে উপজেলা চত্বরে তারা বিক্ষোভ করেন বলে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটি এম আরিফ জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছে, উল্লাপাড়া পৌর সদরের ঝিকিড়া এলাকার গণেশ বণিকের স্ত্রী মিনা বণিকের মরদেহ সোমবার সকাল ১০টায় সৎকার করতে শ্মশানে নেওয়া হয়। এ সময় মাইকিংয়ে শ্মশানের নাম ‘ভুল’ করায় এ ঘটনা ঘটেছে। এর আগে রোববার রাত ৮টার দিকে অসুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান মিনা বণিক।
মৃত মিনা বণিকের ছেলে উল্লাপাড়া উপজেলা ঝিকিরা গ্রামের সন্তোষ বণিক বলেন, “রোববার রাতে আমার মায়ের মৃত্যু হয়। সোমবার সকালে মরদেহ নিয়ে সৎকারের জন্য উল্লাপাড়া মহাশ্মশানে গেলে ঘোষগাতি গ্রামের বাবলু ভৌমিক শ্মশানের চাবি না দিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দেয়।
“যে কারণে মরদেহ নিয়ে স্বজনরা ও গ্রামবাসী উপজেলা চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভ করেছে।”
ঝিকিরা এলাকার রাজেশ কুমার সাহা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই মহাশ্মাশানটি উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নামে পরিচিত। এখানে আমাদের উপজেলার সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সৎকার করা হয়।
“সম্প্রতি এই মহাশ্মশানটি ঘোষগাতি মহাশ্মশান নামে নামকরণ করা হয়। এরপর থেকে দায়িত্বে নিয়োজিতরা এখানে সৎকারে বাধা দিচ্ছে। এটা অন্যায়; আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোষগাতি গ্রামের বাবলু ভৌমিক বলেন, “মিনা বণিকের ছেলেরা উল্লাপাড়া মহাশ্মশানের নাম উল্লেখ করে মাইকিং করেছে। এটি এখন ঘোষগাতি মহাশ্মশান। যে কারণে তাদের চাবি না দিয়ে মাইকিং করা মহাশ্মশান যেখানে আছে, সেখানে যেতে বলা হয়েছিল।
“তবে বিক্ষোভ করার পর ইউএনও অফিস থেকে যোগাযোগ করা হলে মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছে চাবি দেওয়া হয়েছে।”
ইউএনও এটিএম আরফি বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধা নারীর মৃত্যু পর পরিবারের পক্ষ থেকে মহাশ্মশানের চাবি চাওয়া হলে তাৎক্ষণিক না দেওয়ায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল।
“পরে পৌর প্রশাসনের মাধ্যমে চাবির ব্যবস্থা করা হলে ওই মহাশ্মশানেই মরদেহ সৎকার করা হয়েছে।”
চাবি না দেওয়ার বিয়ষটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।