শিকারীর ফাঁদে আহত বাঘিনী ফিরল সুন্দরবনে, পর্যবেক্ষণে যা যা থাকছে
বাঘটি সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায় ছাড়া হয়।
হরিণ শিকারীদের ফাঁদে আটকে আহত বাঘিনীকে ছয় মাস চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে আবারও সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে বাঘটি সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায় ছাড়া হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “এই প্রথম আহত কোনো বাঘকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে পুনরায় বনে ছেড়ে দেওয়া হল। এই ঘটনাটি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণি সংরক্ষণের জন্য ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
এ সময় সেখানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বনবিভাগ জানায়, ৪ জানুয়ারি মোংলার সুন্দরবনের বৈদ্যমারী ফরেস্ট ক্যাম্প সংলগ্ন শড়কির খাল এলাকা থেকে বাঘটি উদ্ধার করে বনবিভাগ। উদ্ধারের আগে ৪-৫ দিন চোরা শিকারীদের পাতা ফাঁদে আটকে ছিল বাঘিনীটি। ফাঁদে আটকে পড়ায় বাঘটির সামনের বাম পায়ে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এতে বাঘটি অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পড়ে।
ঢাকা থেকে বনবিভাগের বিশেষজ্ঞ দল এসে ট্যাংকুলাইজারের মাধ্যমে বাঘটিকে অচেতন করে উদ্ধারের পর খুলনায় নিয়ে যায়। খুলনায় বনবিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রে ছয় মাস এক সপ্তাহ রেখে বাঘটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বনের প্রাণীকে বনেই মানাবে। সে সুন্দরবনের আবাসস্থলে ফিরে গেছে। বাঘের চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে আবার বনে অবমুক্ত করার ঘটনা এটিই প্রথম। এটা ইতিহাস হয়ে থাকবে।”
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি। একটা সময় সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় যারা বসবাস করত তাদের সঙ্গে বাঘের একটা সার্বক্ষণিক দ্বন্দ্ব থাকত। বাঘ লোকালয়ে প্রবেশ করলে মানুষ বাঘ পিটিয়ে মেরে ফেলত। সেই সমস্যা কিন্তু এখন অনেকটাই কমে গেছে।
“মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্বটি যাতে কমে সেজন্য ভিলেজ টাইগার রেন্সপন্স টিম (ভিটিআরটি) করেছি। এখন তা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। বনের ৩৫ কিলোমিটার রশি দিয়ে ফেন্সিং করেছি। যাতে বনের বাঘ লোকালয়ে আসতে না পারে।”
তিনি বলেন, “আগে বনবিভাগের কর্মীরা নৌকায় করে টহল দিত। আমরা এখন তাতে পরিবর্তন এনেছি। বনকর্মীদের হেঁটে টহল দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তারা বনের ভেতরে কিভাবে কত সময় দায়িত্ব পালন করছে তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হেঁটে টহল দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর কারণে বনের ভেতরে হরিণ শিকারিদের ফাঁদ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।”
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “একটি বাঘ সাধারণত বনের অভ্যন্তরের ৩০-৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিচরণ করে। বাঘিনীটি যেখান থেকে উদ্ধার হয়েছিল তার থেকে অন্তত ২০-২৫ কিলোমিটার দূরের বনে ছাড়া হয়েছে। বাঘটি আগের জায়গায় ফিরে আসে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। বাঘিনীটির বয়স ৯-১০। লম্বায় প্রায় আট ফুট।
“বাঘটি যে এলাকায় অবমুক্ত করা হয়েছে শনিবার সেই এলাকায় ১৯টি এবং যেখান থেকে বাঘটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল সেখানে একটি ইনফ্রারেড ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বনের ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ ক্যামেরা বসানোর উদ্দেশ্য হল, বাঘটির গতিবিধির ভিডিও এবং ছবি ধারণ করা। ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রথম ১০ সেকেন্ড ভিডিও এবং পরের ১০ সেকেন্ড স্থির চিত্র ধারণ হবে।”
