Published : 30 Jul 2024, 04:51 PM
কোটা আন্দোলন ঘিরে দেশব্যাপী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ‘হত্যা’, ‘নির্যাতন’ ও আটকের প্রতিবাদে মুখে লাল কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চোখ ও মুখে লাল কাপড় বেঁধে শিক্ষকদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে একটি মৌন মিছিল বের হয়।
মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুরাতন ফজিলাতুন্নেসা হল সংলগ্ন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় নিহতদের স্মরণে নির্মিত ‘ছাত্র-জনতা শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের’ সামনে যায়। সেখানে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
পরে সেখান থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল একই পথ ঘুরে শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশ মিলিত হয়।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যতম সমন্বয়ক আরিফ সোহেলের নামে ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে রিমান্ডে নেওয়ার নিন্দা জানানো হয়।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, “‘দুঃশাসন’ ও ‘স্বৈরচারী’ মন-মানসিকতার শাসক যখন রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকে, তখন তার পরিপূর্ণ নকশা ও বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাচ্ছি।
“শিক্ষার্থীরা যখন তাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নামে তখন তাদের প্রতিরোধ করতে রাষ্ট্রের বাহিনী, নানান যন্ত্র ও তাদের মদদপুষ্ট সংগঠনগুলো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালায়। এখন আবার সরকার শিক্ষার্থীদের নির্বিচারে আটক করছে, জেলে নিয়ে নির্যাতন করছে।”

ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার বলেন, “শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় স্লোগান শুনে প্রশ্ন জেগেছে তাহলে কী নব্বইর গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে গেছে। দুঃখের সঙ্গে সেই দায় নিয়ে বলতে হচ্ছে, সকল রাজনীতিবিদ স্পষ্টভাবে একটি বার্তা বুঝে নিন সংখ্যা কোনো বিষয় নয়; যখন একটি শিশুর লাশ পরে, তখন সকল সচেতন মানুষ একত্রিত হয়ে যায়।
“আজকে যে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করেছেন, এগুলোর সমাধান করে নিজেদের দায় স্বীকার করে শিক্ষার্থীর দাবি মেনে নিয়ে নিজেরাও বাঁচুন আমাদেরকেও বাঁচান।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক তৌহিদ সিয়াম বলেন, “দুই দিন আগে ছয়জন সমন্বয়কারীকের ধরে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে ‘জিম্মি’ করে আন্দোলন প্রত্যাহারের বক্তব্য আদায় করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে সেই বক্তব্য প্রত্যাক্ষিত হতে দেখেছি।
“এ আন্দোলনটি ছাত্রসমাজের আন্দোলন। সমন্বয়কারীরা ছাত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং তাদের কোনো কথা থাকলে ছাত্রদের কাছে এসে বলতে হবে। ডিবি কার্যালয়ে থেকে কোনো কথা বললে সেটি ছাত্রসমাজ গ্রহণ করবে না।
“সরকারের ঘোষণা করা শোক ছাত্রসমাজ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আমাদের ভাইদের হত্যার বিচার এবং নয় দফা দাবিতে মুখ ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
সেইসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক আরিফ সোহেলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তৌহিদ সিয়াম।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মৃধা মো. শিবলী নোমানের সঞ্চালনায় দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মাসউদ ইমরান এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদা আকন্দ বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলন: ঢাবি সাদা দলের ১১ দফা দাবি
কোটা: আন্দোলন বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে জাবিতে বিক্ষোভ
কোটা: জাবির সমন্বয়ককে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, শিক্ষকদের প্রতিবাদ