Published : 18 Jul 2026, 11:01 PM
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে জরায়ুর টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচারের সময় এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালটির বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন ওই নারীর স্বজনরা।
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় এক রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। তদন্তে চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহত আরিফা (৩০) উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের নয়ানগড় গ্রামের দিনমজুর শামীমের স্ত্রী। তিনি দুই কন্যাসন্তানের মা। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, শুক্রবার দুপুরের পর জরায়ুর টিউমার অপসারণের জন্য আরিফাকে আমরাইদ বাজারে অবস্থিত আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে অস্ত্রোপচারের সময় তার মৃত্যু হয়।
আরিফার খালা শাশুড়ি হুসনা আরা অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর কিছু সময় অন্ধকারে ছিল অপারেশন কক্ষ। স্বজনদের উদ্বেগের পর জেনারেটর চালু করা হয়। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা জানান, রোগীর সমস্যা হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়ার সময় আরিফাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান দাবি করে তিনি বলেন, “পরে পুলিশ এসে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে লাশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করে।”
আরিফার শাশুড়ি বলেন, “আমার ছেলের বউ সুস্থ অবস্থায় টিউমার অপারেশনের জন্য হাসপাতালে গিয়েছিল। রাতে জানতে পারি সে মারা গেছে। তার দুটি ছোট মেয়ে রয়েছে। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই অপারেশন থিয়েটারে তার মৃত্যু হয়েছে।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “অপারেশনের শেষপর্যায়ে ওটিতে রোগীর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরে তাকে সেলাই শেষ করে ভেন্টিলেশনে নিতে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে রোগীর স্বজনরা পথে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
তিনি বলেন, তাদের এ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের নিবন্ধন রয়েছে।
কাপাসিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ নাসির আহমদ বলেন, আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০১৯ সালে একই হাসপাতালে এক প্রসূতির মৃত্যুর পর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর সে সময়ের কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসমত আরা হাসপাতালটি সাময়িকভাবে সিলগালা করেছিলেন।