Published : 18 Jan 2026, 03:45 PM
নরসিংদী রায়পুরা উপজেলার ধর্ষণ চেষ্টা ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৩ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল চরমধুয়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান রায়পুরা থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান।
গ্রেপ্তাররা হলেন, চরমধুয়া ইউনিয়নের সমীবাদ গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে মো. রাহীম (১৮), আইয়ুব মিয়ার ছেলে মাহবুবুর রহমান (২৮) ও গাজীপুরা এলাকার রইছ উদ্দিনের ছেলে মো. ত্রিসাদ (২০)। স্থানীয়দের সহায়তায় গাজীপুরা বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
এছাড়া সমীবাদ গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে সাজিদ মিয়া (১৯) ও গাজীপুরা গ্রামের বাবুল তালুকদারের ছেলে শাহ পরান (২০) পলাতক রয়েছে।
ওসি মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ঘটনার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ৫ জনকে আসামি করে শনিবার পর্নোগ্রাফী আইনে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী তরুণী (১৮) ।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণ-যুবকরা ভুক্তভোগী তরুণীকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করছিল। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তিনি ঘর থেকে বের হলে মাহাবুবুর রহমান তার মুখ চেপে বাড়ির সামনে খড়কোটার (গাদার পাড়া) মধ্যে নিয়ে যায় এবং তাকে মাটিতে ফেলে দেয়।
সেখানে সাজিদ তার পোশাক টেনে ছিড়ে ফেলে। রাহিম তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে শাহপরান।
তরুণীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে যুবকরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী স্থানীয় ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এদিকে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় ওই যুবকরা।
পাশাপাশি একটি মহল এ ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ।
ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, “ধর্ষণ চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা হয়েছে।
“ভিডিও থেকে অভিযুক্তদের চেহারা স্পষ্ট বোঝা যায়। আমরা এর মধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা ও আমাদের আইনী প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।"