Published : 13 May 2026, 09:10 PM
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের সীমান্তবর্তী অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে বোরো ধান, সবজি ও মাছের ঘেরের ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও সরকারি কর্মকর্তারা জানান, বুধবার সকালে উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়ায় মেনংছড়া নদীতে এবং গাজীরভিটা ইউনিয়নের বুড়াঘাট নদীর মধ্য বোয়ালমারায় বাঁধ ভেঙে যায়।
এ দুটি ইউনিয়ন ছাড়াও হালুয়াঘাট ইউনিয়নেও কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
দুপুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেঘালয়ের কোলঘেঁষা সীমান্তবর্তী জনপথ গাজীরভিটা ও ভূবনকুড়া ইউনিয়ন। এই দুই ইউনিয়নে রয়েছে পাহাড়ি বুড়াঘাট ও মেনংছড়া নদী।
মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় টানা বৃষ্টিতে ও পাহাড়ি ঢলে মেনংছড়া ও বুড়াঘাট নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

এতে ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মাজকুড়া এলাকায় মেনংছড়া নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। তখন মাজরাকুড়া, কুমারগাতী, আচকীপাড়া, তেলীখালী, কড়ইতলী, মহিষলেটি গ্রাম এবং হালুয়াঘাট সদর ইউনিয়নের গোবরাকুড়া, কালিয়ানিকান্দা, মনিকুড়া, রাংরাপাড়া গ্রাম প্লাবিত হয়।
অপরদিকে গাজীরভিটা ইউনিয়নের বুড়াঘাট নদীর মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় ভাঙা বাঁধ দিয়ে সকাল থেকে পানি প্রবেশ করে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের মধ্যে রয়েছে- বুড়াঘাট, বোয়ালমারা, মধ্য বোয়ালমারা, ডুমনীকুড়া, কাতলমারী, সূর্যপুর, সুমনিয়াপাড়া, মহাজনীকান্দা, পূর্ব কালিনিকান্দা ও আনচেংগ্রী।
হালুয়াঘাট দর্পন পরিষদের পরিচালক মাহমুদ আব্দুল্লাহ বলেন, “পাহাড়ি ঢলের এই দুর্ভোগ মূলত উজানে অতিবৃষ্টি, নদী-খাল ভরাট হয়ে পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং নদী পাড়ের দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফল। প্রতি বছর একইভাবে হালুয়াঘাটের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়।”
তিনি বলেন, নদী ও খালগুলোর সংস্কার, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং আগাম সতর্কতা জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী নদীগুলোর যৌথ ব্যবস্থাপনায়ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। কৃষকদের ক্ষতি কমাতে সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা উচিত।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এ বি এম লুৎফর রহমান বলেন, “গাজীরভিটা ইউনিয়নে ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবদ হয়। এরই মধ্যে ৬০ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এখনি বলা যাচ্ছে না। পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ বলা যাবে।”
কৃষি কার্যালয় থেকে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে প্লাবিত এলাকায় গড়ে ৫৬ শতাংশ ধান কর্তন হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে অন্তত ৭০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
বোয়ালমারা গ্রামের কৃষক আব্দুস ছালাম বলেন, “কয়েকদিন আগে ঢলে নষ্ট কইরা গেছে বাদাম। ধান পানিতে ডুবলেও তেমন ক্ষতি অয় নাই। এহন তো ধান পাকা। দুই-এক দিনের মধ্যে কাটার কথা ছিল। এখন সব পানির নিচে।
“বোয়ালমারা এলাকার বাঁধ যদি না ব্যবস্থা অয়, তাইলে আর কোনো ফসল ঘরে তুলন যায়বো না। এখানে স্থায়ী বাঁধ অইলে এত ক্ষতি অইতো না।”
মাজরাকুড়া এলাকার কৃষক মো. ইব্রাহিম বলেন, “পাহাড়ি ঢলে পানি উপচে বাড়িঘরে উঠে গেছে। ফসলের মাঠ পানির নিচে। আমরা এখন নিরুপায়।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে দুপুর পর্যন্ত ৭০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। বৃষ্টি বাড়লে এর পরিমাণও বাড়বে।