Published : 02 Jul 2026, 07:12 PM
লালমনিরহাটে ঝড়ে একটি ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে অন্ধকারের মধ্যে রয়েছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও গ্রাহকরা জানান, সোমবার ঝড় ও বজ্রপাতের সময় আদিতমারী-২ সাব-স্টেশনের (হাজীগঞ্জ) ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যায়। এতে ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক সংযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকাগুলোয় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন চলতি এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
আদিতমারী উপজেলার হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকার দোকানের ফ্রিজ কাজ করছে না। অনেক জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকার যন্ত্রণা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। স্বাভাবিক জীবন বলে কিছু নেই।”
একই উপজেলার আমেনা এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম বলেন, “পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতি বলতে তো কিছু একটা থাকে। মোমবাতির আলোতে কি আর প্রস্তুতি নেওয়া যায়।”
কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, “জীবনটা গরমের ঠেলায় শ্যাষ হয়া গেইল বাহে।”
আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, “বজ্রপাতে ট্রান্সফরমারটি পুড়ে বিকল হয়ে গেছে। আমরা বসে নেই। ঢাকা থেকে একটি নতুন ট্রান্সফরমার নিয়ে আসা হয়েছে এবং সেটি প্রতিস্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।”
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। গ্রাহকদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”