কর্মীর বিয়ে খেতে হেলিকপ্টারে গোপালগঞ্জে এলেন সৌদি নাগরিক

তাদের একনজর দেখতে কলেজ মাঠে উৎসুক জনতার ভিড়।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 March 2024, 06:56 AM
Updated : 29 March 2024, 06:56 AM

নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীর বিয়ে খেতে বাংলাদেশে এসেছেন সৌদি আরবের এক নাগরিক। পরে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে গোপালগঞ্জে পৌঁছান তিনি। এমন ঘটনা এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামের পল্লী মঙ্গল ইউনাইটেড একাডেমি অ্যান্ড কলেজে মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নামেন সৌদি নাগরিক মি. আবু বন্দর এবং প্রবাসী লালন শেখ।

এদিকে লালন শেখের সঙ্গে তার সৌদি মালিক (কফিল) গ্রামে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। তাদের একনজর দেখতে সকাল থেকেই কলেজ মাঠে উৎসুক জনতা অপেক্ষা করতে থাকেন।

সৌদি থেকে আসা নাগরিককে বরণ করে নিতে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। হেলিকপ্টার অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে হৈহুল্লোড় পড়ে যায়। এ সময় ফুলের মালা দিয়ে সৌদি প্রবাসী এবং তার মালিকে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে প্রাইভেটকারে করে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান লালন।

স্থানীয়রা জানান, কাজুলিয়া গ্রামের মোসলেম উদ্দিন শেখের ছেলে ৪৫ বছর বয়সি লালন ১৫ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের নাদিম এলাকার আবু বন্দরের মালিকানাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।

চাকরির সুবাদে মালিক আবু বন্দরের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। লালন শেখের ভাতিজা একই এলাকার প্রয়াত কবির শেখের ছেলে রাশেদুল শেখও তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

রাশেদুলের বিয়েতে যোগ দিতে বুধবার সকালে সৌদি আরবের একটি ফ্লাইটে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তারা। পরে সেখান থেকে হেলিকপ্টার ভাড়া করে নিজ গ্রামে নামেন।

কাজুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রফিক শেখ বলেন, “এর আগে কখনো কেউ আমাদের গ্রামে হেলিকপ্টারে করে আসেনি। গ্রামের ছেলে লালন শেখের সঙ্গে এসেছেন তিনি। আমরা খুবই খুশি হয়েছি হেলিকপ্টার দেখে।”

কর্মীর বাড়িতে আসার অনুভূতির কথা জানতে চাইলে আবু বন্দর বলেন, “বাংলাদেশ আমার দ্বিতীয় বাড়ি। এখানে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। এখানকার মানুষের ভালবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

“আমি প্রায় দুই সপ্তাহ থাকব। এখানকার প্রতিটি এলাকা ঘুরে দেখব। এ ছাড়া আমার এক কর্মীর বিয়ের দাওয়াতে অংশ নেব। এখান থেকে ফিরে আমার প্রতিষ্ঠানে এই এলাকার আরও কর্মী নেব।”

সৌদি প্রবাসী লালন শেখ বলেন, “আমার কফিল (মালিক) ভাতিজার বিয়ের দাওয়াতে আমাদের বাড়িতে এসেছে। আমার ভাতিজাও তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি দুই সপ্তাহের মতো এখানে থাকবেন।”

[প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক]