অনলাইন প্রতারণা: দূতাবাসের জিম্মায় ৬ চীনা নাগরিকের জামিন
দুই মাস আগে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের সামনে থেকে তাদের আটক করে পুলিশ।
অনলাইনে প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের অভিযোগে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার ছয় চীনা নাগরিককে জামিন দিয়েছে আদালত।
বুধবার কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ আবদুর রহিম চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধির জিম্মায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মান্নান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যে আইনে মামলাটি হয়েছে, সেটি পর্যালোচনা করে এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সংস্থার বিষয়াদি বিবেচনায় নিয়ে আদালত চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধির জিম্মায় তাদের জামিন দিয়েছে।”
তদন্তে এ পর্যন্ত পাওয়া কাগজপত্র পর্যালোচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আব্দুল মান্নান।
তিনি বলেন, জামিন পাওয়ায় তাদের দেশে ফিরতে বাধা নেই। তবে মামলার ধার্য তারিখে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। চীনা দূতাবাস তাদের জিম্মা নেওয়ায় পরবর্তী বিষয়গুলো দূতাবাসের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে।
আইনজীবী বলেন, জামিননামা এর মধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার সকালে কারাগার থেকে তাদের মুক্তি মিলতে পারে।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার শহরের সি প্যালেসের সামনে থেকে ওই ছয় চীনা নাগরিককে আটক করা হয়। তারা হলেন- ওয়েই চিং ওয়েন, শু ইয়াংফান, ইয়ান চাংশেং, শু হাইইয়াং, উ জিয়ানসিয়ং এবং ঝাং ঝেমিং।
এর দুই দিন পর ৫ সেপ্টেম্বর অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের অভিযোগে রামু থানায় মামলা করেন পুলিশের পরিদর্শক মিন্টু দত্ত। মামলায় ১০ জনের নাম ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে আড়াই শতাধিক চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক অবস্থান করে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইনানী ও হিমছড়ির কয়েকটি রিসোর্টে অভিযান চালায়। সেখান থেকে এক হাজার ৯৩৮টি আইফোন, প্রায় ৪০টি কম্পিউটার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
বর্তমানে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির সাইবার ইউনিট তদন্ত করছে।
