Published : 21 Jan 2026, 08:35 PM
রাজশাহীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের সময় জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপি নেতারা।
তারা জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক না দেওয়ার দাবি জানায়। তবে এ বিষয়ে ‘কিছু করার নেই’ জানিয়ে জাতীয় পার্টির তিন প্রার্থীকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার।
এর আগে বুধবার সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সব প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে প্রার্থীদের সঙ্গে আচরণবিধি নিয়ে মতবিনিময় করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
পরে জেলার ছয়টি আসনে ২৯ জন প্রার্থী তাদের প্রতীক বুঝে নিয়েছেন। এর মধ্যে ২৬ জন দলীয় ও ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
প্রত্যেকে দলীয় ও পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। নির্বাচনের আচরণ বিধি মেনে বৃহস্পতিবার থেকে প্রচার করতে পারবেন তারা।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রাজশাহী-২ আসনে সালেহ আহমেদ ‘মোটরসাইকেল’, রাজশাহী-৫ আসনে পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইসফা খায়রুল হক ‘ঘোড়া’ এবং যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিমকে ‘ফুটবল’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে রাজশাহী-৩, রাজশাহী-৪ ও রাজশাহী-৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি।
রাজশাহী-৩ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আফজাল হোসেনের প্রতীক বরাদ্দ ঘোষণা করা হলে প্রতিবাদ জানান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জেলা এনসিপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম সাজু।
এ সময় তিনি মাইক নিয়ে বলেন, “জাতীয় পার্টি ফ্যাসিবাদের দোসর। তাদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেওয়া মানে জুলাই শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা। কোনোভাবেই জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।”
জাতীয় পার্টির নির্বাচনি কার্যক্রম রুখে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারকে উদ্দেশ্য করে সাজু আরও বলেন, ‘‘জুলাই শহীদের রক্তের বিনিময়ে আপনি আজ ওই চেয়ার পেয়েছেন। আপনি জুলাই শহীদের সঙ্গে বেঈমানি করতে পারেন না। আপনি জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দিবেন না।”
এনসিপি নেতার বক্তব্যের জবাবে আফিয়া আখতার বলেন, “প্রতীক বরাদ্দ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপ। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা যে কাজ করছি আইনের মধ্যেই করছি। আপনাদের কোনো বক্তব্য থাকলে লিখিত দেন। আমি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দিব।”
এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে এনসিপি নেতা সাজুর বাক বিতণ্ডা হয়।
তবে নিয়ম অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তা জাতীয় পার্টির প্রার্থী আফজাল হোসেনের হাতে প্রতীক তুলে দেন। প্রতীক নিয়ে সেখানে অপেক্ষা না করে বের হয়ে যান আফজাল হোসেন। পরে এনসিপি নেতারাও স্থান ত্যাগ করেন।
এদিকে প্রতীক বরাদ্দে বাধা দেওয়া হুমকি হিসেবে দেখছেন আফজাল হোসেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়া নাগরিকের অধিকার। দল আমাকে মনোনীত করেছে তাই প্রার্থী হয়েছি। প্রতীক বরাদ্দের সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যে উদ্ধত আচরণ দেখলাম নির্বাচনের প্রচার চালাতে পারবো কি না সে নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।”
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও রাজশাহী জেলার সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, “আমি নিজেও সেখানে ছিলাম। দেখলাম প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনে ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ। জেলা প্রশাসক এটি ট্যাকেল করেছেন। তবে এটিও একটি মব। ”
“আমাদের প্রার্থীরা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে মবের শিকার হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি দলের হাই কমান্ডকে জানানো হবে। তারা যে সিদ্ধান্ত দিবে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব।”