মিয়ানমারের ‘উস্কানির’ শান্তিপূর্ণ সমাধান কাম্য: ওবায়দুল কাদের

বংলাদেশ প্রয়োজনে বিষয়টা জাতিসংঘে নিয়ে যাবে বলেও ওবায়দুল কাদের জানান।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Sept 2022, 06:36 PM
Updated : 22 Sept 2022, 06:36 PM

সীমান্তে মিয়ানমারের ‘উস্কানিমূলক’ তৎপরতায় সৃষ্ট পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান চান বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। 

বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় মধুমতি নদীর উপর নির্মিত মধুমতি সেতু পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন। 

প্রায় দুই মাস ধরে মাঝে মাঝে বান্দরবান ও কক্সবাজার সীমান্তে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল এসে পড়ছে। দেশটির হেলিকপ্টরও  কয়েকবার সীমান্ত লংঘন করেছে। একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মর্টারের শেলের আঘাতে এক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। 

সীমান্তের ওপারে প্রতিদিন চলছে গোলাগুলি; এতে এপারের লোকজন আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। বান্দরবানের কিছু এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। বান্দরবানের ঘুমধূমের একটি এসএসি পরীক্ষা কেন্দ্র কক্সবাজারের উখিয়ায় সরিয়ে আনা হয়েছে। 

এসব ঘটনায় ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   

মন্ত্রী বলেন, “আমাদের যেখানে যাকে এ ব্যাপারে দায়িত্ব দেওয়া দরকার যথাযথ ব্যক্তিদের যথাস্থানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার কথা আমরা কারো সাথে যুদ্ধ করব না – প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন। সেভাবে প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব সবাই প্রস্তুত আছে।” 

তিনি বলেন, “আমরা আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত হব না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে উভয়পক্ষ আলাপ আলোচনার টেবিলে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করতে চাই। প্রয়োজনে বিষয়টা আমরা জাতিসংঘে নিয়ে যাব।” 

প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর এ ব্যাপারে জাতিসংঘে বক্তব্য প্রদান করবেন। সেখানে তিনি ব্যাপারটা উত্থাপন করবেন বলে আশা করছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, এখন যুদ্ধ করার সময় না। ইউক্রেন যুদ্ধে সারা বিশ্বে জ্বালানি সংকট চলছে। গোটা বিশ্বে আজকে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। 

“আমি আশা করি শান্তিপূর্ণ সমাধানই কাম্য। মিয়ানমারও আশাকরি শান্তির পথে আসবে।” 

মধুমতি নদীর উপর নির্মিত মধুমতি সেতু উদ্বোধন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই সেতু দেশরত্ন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি। শুধু নড়াইলবাসীর জন্য নয়, এই প্রতিশ্রুতি যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, খুলনাসহ গোটা অঞ্চল সুফল পাবে।

৬৯০ মিটার দীর্ঘ ৬ লেন বিশিষ্ট এ সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে ৯৫৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। 

“আমরা যথাসময়ে কাজ শেষ করেছি। অক্টোবর মাসেই বহু প্রতিক্ষিত এ সেতুটি উদ্বোধন হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা দিয়ে কথা রেখেছেন।”

মন্ত্রী বলেন, এই সেতুর নাম মধুমতি সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতুর নামকরণ করেছেন। এই সরকারের আমলে সুদূর পাহাড়ে পর্যন্ত যেদিকে যান শুধু রাস্তা। ইতিহাসে এর কোনো নজির নাই। 

“যেখানে প্রয়োজন ৪ লেন, ৬ লেন আমরা করেছি। আমরা পদ্মাসেতু করলাম, এর সুফল পেতে হলে রাস্তাও প্রশস্ত করতে হবে। সেটা আমরা জানি। আমাদের পরিকল্পনা আছে।পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে।” 

এ সময় নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা, ক্রস বর্ডার নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক শ্যামল কুমার ভট্ট্রাচার্য, গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদ হোসেন, মধুমতি সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান, কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসানসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লগ নেতৃবৃন্দ  উপস্থিত ছিলেন।  

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক