১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নওগাঁয় তাপমাত্রা নেমেছে ৯ ডিগ্রিতে, বিপর্যস্ত জনজীবন

ঘন কুয়াশার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বোরো বীজতলা।

নওগাঁ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jan 2026, 01:50 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:29 PM

তীব্র শীতে নওগাঁর মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘনকুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরি-বোরো বীজতলা। 

শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা। এছাড়া নওগাঁ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা।

এর মধ্যে শনিবার সকাল ৯ টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক মিজানুর রহমান।  

স্থানীয়রা জানান, বুধবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে জেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি। সঙ্গে বইছে ঠান্ডা বাতাস। এ কারণে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। 

হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। এর মধ্যেও হাড়কাঁপানো শীতে নাজেহাল হয়ে জীবিকার তাগিদে ছুটছেন কর্মজীবী মানুষ। বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। 

সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। প্রয়োজনের তাগিদে রিকশা, ভ্যান, অটো চার্জারের যাত্রী ও চালকদের ঘন কুয়াশার মধ্যেও চলাচল করতে হচ্ছে। 

নওগাঁ শহরের রিকশা চালক আব্দুস সাত্তার বলেন, তীব্র শীতের কারণে সকালে ঘর থেকে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতে যানবাহন চালানো খুবই কষ্টের, হাত পা কাপেঁ। আবার লোকজন কমে যাওয়ায় আয়ও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

পাশপাশি ঘন কুয়াশার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বোরো বীজতলা। 

মান্দা উপজেলার প্রশাদপুর এলাকার চাষি পলাশ মণ্ডল বলেন, “কয়েকদিনের ঘন কুয়াশার কারণে তার জমির বীজতলা লাল বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। কুয়াশা না কমলে বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হবে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, “জেলায় এ বছর ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এজন্য বীজতলা তৈরি করা হয়েছে ৮ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে।

তবে কুয়াশা এবং শৈত্যপ্রবাহ থেকে ইরি-বোরো বীজতলা রক্ষায় বীজতলা পলিথিনে মুড়িয়ে রাখার এবং রাতে পানিতে ডুবিয়ে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এই পরামর্শ মেনে চললে বীজতলার খুব একটা ক্ষতি হবে-না ।

একইসঙ্গে এ তীব্র শীতের মধ্যে ইরি-বোরো রোপন না করারও পরামর্শও  দেওয়া হচ্ছে চাষিদের। এর ফলে ইরি-বোরো চাষাবাদ কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে বলেও জানান কৃষি কর্মকর্তা হুমায়রা মন্ডল। 

এদিকে তীব্র শীতের মধ্যে খাদ্য সংগ্রহের জন্য খোলা মাঠে চড়ানো হচ্ছে গবাদি পশু।

এছাড়া গরম কাপড়ের অভাবে অসহায় পরিবারগুলো রয়েছে ব্যাপক ভোগান্তিতে। তবে স্বল্প সংখ্যক হলেও বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। 

নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তা আশেকুর রহমান বলেন, “জেলায় এ বছর দুস্থ, দরিদ্র শীর্তাতদের জন্য ৩০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তা ১১ উপজেলায় এবং ৩ পৌর এলাকায় শীতবস্ত্র ক্রয়ের জন্য আরো প্রায় ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে। 

তা দিয়ে দ্রুত শীতবস্ত্র ক্রয় করে বণ্টন করা হবেও জানান এ কর্মকর্তা। 

নওগাঁ সদর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডা. আবু জার গাফফার বলেন, নওগাঁয় তীব্র শীতের কারণে শিশু, বয়স্কসহ অনেকে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। 

শনিবার জেলায় ভর্তি আছে ২৫৭ জন রোগী। এদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি বলেও জানান এই চিকিৎসক।