Published : 11 Oct 2025, 01:37 PM
পারিবারিক পিকনিকে কুয়াকাটা যাওয়ার পথে র্যাবের মিনিবাসের সঙ্গে আরেকটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৪ জন।
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ফতুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান সদর থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ।
র্যাব-৮ এর মিডিয়া কর্মকর্তা ও জেষ্ঠ্য সহকারী পরিচালক অমিত হাসান বলেন, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তারা হলেন, এসআই প্রসেনজিতের দুই বছর বয়সী ছেলে পিয়াস এবং মিনিবাসের চালক এএসআই আলিম।
দুর্ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত রয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর মধ্যে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর শিশু পিয়াস মারা যায় বলে জানিয়েছেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তামান্না রহমান শান্তা।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকাল ৯টার কিছু পূর্বে বেশ কজন আহত রোগী হাসপাতালে আসতে থাকেন। এর মধ্যে প্রথমেই দুই বছরের শিশু পিয়াসকে নিয়ে আসে। তাকে আমরা মৃতই পাই। এর পরে একে একে হাতে-পায়ে ও মুখে কাটা ছেড়া গুরুতর অবস্থায় রোগী আসতে থাকে। এর মধ্যে ৭-৮ জনের অবস্থা গুরুতর।

“সকলকেই আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠাই। গুরুতর আহতদের লেবুখালী সেনানিবাস সিএমএইচ ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয়দের বরাতে ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সকালে বরিশাল থেকে র্যাবের একটি মিনিবাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পিকনিকের উদ্দেশে কুয়াকাটা যাচ্ছিল। পথে ফতুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা ধানসিঁড়ি পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এর মধ্যে গুরুতর আহতদের পযার্য়ক্রমে র্যাব ও সেনাবাহিনীর অ্যাম্বুলেন্সে বরিশাল সিএমএইচ ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নথিতে পাওয়া আহতরা হলেন, গলাচিপা উপজেলার ইব্রাহিম (৩৫), নরাইল এলাকার রেহেনা (৫৫), র্যাব পরিবারের সদস্য মাহাবুবা (২৮), হৃদয় (৩২), ভোলার কামাল (৪০), নড়াইলের শামিমা (৪০), ঝিনাইদহের ওমর (৪০), নীলফামারির আরোজা (৪১), বাগেরহাটের আরিফ (২৭), বরিশালের তাসনিম (১৭), গলাচিপার বেল্লাল (৫০), পিয়াস (৯), জুনায়েদ (৭ মাস), আমতলীর যুথি আক্তার (১৬), দিনা (৮), র্যাব পরিবারের সদস্য মীম (৮), সাতক্ষীরার এশা (২৯), সাতক্ষিরার প্রসেনজিৎ (৩৩), সাতক্ষিরার পিয়াস (২), আমতলীর মো. ফরিদ (১৮), রাঙ্গাবালীর আবদুল্লাহ (৪), আমতলীর রবিউল (১১), বাগেরহাটের মেঘলা (২০), বরিশালের মো. ইলিয়াস শেখ (৩২), গলাচিপার সানজিদা (২১), গলাচিপার রিফাত (৮), নিপা (বয়স উল্লেখ নাই), ইব্রাহিম (৪২), আমতলীর নাজমুল ইসলাম (৩২), বরগুনার নেয়ামত উল্লাহ (২৪), কামাল হোসেন (বয়স উল্লেখ নাই)।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বশেষ আমার কাছে যে তথ্য তাতে গুরুতর আহত ১৫জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।”
তিনি বলেন, “র্যাব ও সেনাবাহিনীর অ্যাম্বুলেন্সে আহতদের নেওয়া হয়েছে তাই কতজন সিএমএইচ ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে সে তথ্য সঠিক করে বলা যাচ্ছে না।”