Published : 02 May 2026, 09:37 PM
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে ভাইয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী মনোজ কুমার।
দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ দাবি করে তিনি বলেছেন, “আমরা একে অপরের ভাইয়ের মত। দুই দেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীরা পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করলে এ অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।”
শনিবার দুপুরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরের সভাকক্ষে স্থানীয় ব্যবসায়ী, সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ ও কাজের সমন্বয় ক্রমাগত বাড়ছে দাবি করে সহকারী হাই কমিশনার বলেন, এই অগ্রগতির ধারায় দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও সন্তুষ্ট।
মনোজ কুমার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মধ্যে গভীর মিল রয়েছে। অভিন্ন এই ভিত্তিগুলোকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে জনমনে ইতিবাচক চিন্তা গড়ে তোলা জরুরি।
ভিসা জটিলতা নিয়ে মনোজ কুমার বলেন, “বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য এর মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিশেষ কিছু সুবিধাও রাখা হয়েছে।
“নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ভিসা প্রদান বর্তমানে অব্যাহত আছে। এ ছাড়া অন্যান্য স্তরেও এটি আরও সহজতর করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
সভায় বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ভিসা প্রাপ্তিতে জটিলতা নিরসনের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। এসব সমস্যা গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সহকারী হাই কমিশনার।
বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার (ডিসি) মহী উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান, সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এ এস এম নিয়াজ নাহিদ এবং আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল বক্তব্য দেন।
এর আগে সহকারী হাই কমিশনার স্থলবন্দরে পৌঁছালে ব্যবসায়ীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সভা শেষে তিনি বুড়িমারী স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট (শূন্যরেখা) পরিদর্শন করেন।
সেখানে ভারতীয় চ্যাংড়াবান্ধা শুল্ক স্টেশনের ব্যবসায়ী ও বিএসএফ কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। বিকালে পাটগ্রামের ঐতিহাসিক পাটেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন তিনি।