Published : 09 Jun 2026, 08:59 PM
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নিজের জন্মদিন পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে হত্যাকাণ্ডের শিকার তরুণ ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে গফরগাঁও পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা গয় বলে জানিয়েছেন গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুর রহমান।
আটক মো. রাজিব মিয়া (৪১) একই এলাকার মোতালেব মিয়ার ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময় ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন।
নিহত নাহিয়ান রবিন (২৩) পৌর এলাকার সিলাশী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। রবিন স্থানীয় একটি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন।
সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাজার রোড এলাকায় মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে রবিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল সংসদ সদস্য থাকাকালীন গফরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ ছিল। তবে দুটি পক্ষই নিয়ন্ত্রণ করতেন বাবেল। একটি পক্ষে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাজমুন এবং অপরটি বাবেলের পিসএস ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সোহেল নিয়ন্ত্রণ করতেন।
সোহেলের পক্ষের নেতা ছিলেন রাজিব। আর রবিন ছিলেন তাজমুনের পক্ষের সদস্য। এর মধ্যে গফরগাঁও পৌর মেয়র সুমন সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এতে বাবেলের সঙ্গে সুমনের বিরোধ শুরু হয়। এক পর্যায়ে তাজমুন পৌর মেয়র সুমনের পক্ষে যোগ দেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেল তার লোকজন নিয়ে তাজমুনকে কুপিয়ে আহত করেন। তাজমুনকে কোপানোর ঘটনায় রাজিবও জড়িত ছিলেন বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে পৌর মেয়র সুমন ও তাজমুন এলাকা ছাড়া হন। সেই সময় থেকে রবিনের উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন রাজিব।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা বলেন, মঙ্গলবার রবিনের জন্মদিন ছিল। এ উপলক্ষে সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা ডাক বাংলো চত্বরে কেক কাটার আয়োজন করেন তার বন্ধুরা। অনুষ্ঠান শেষে রাত বন্ধু শাকিবুলের হাসান মাসুমের মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।
পথে ওঁৎ পেতে থাকা ছয় থেকে সাতজন মুখোশধারী তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুখোশধারীরা রবিন ও তার বন্ধুর চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে দেয়। এ সময় রবিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত ভেবে চলে যায় হামলাকারীরা।
স্থানীয়রা টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার বর্ণনায় রবিনের বন্ধু শাকিবুল বলেন, “চোখের পলকে ওরা আমাদের চোখে মরিচের গুঁড়ো মেরে দেয়। আমরা কিচ্ছু দেখতে পারছিলাম না। ওই অবস্থাতেই ওরা হামলা চালায়। আমি কোনোভাবে দৌড়ে বাঁচলেও ওরা রবিনকে শেষ করে দিল।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, রবিন ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন। তবে তার কোনো পদ ছিল না। এ ছাড়া বর্তমানে ছাত্রলীগের দলীয় কাজের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্তা ছিল না।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাজিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশি অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে, তিনটি পিস্তল, সাতটি গুলি, ১৩টি কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি চাপাতি, তিনটি সুইচ গিয়ার চাকু, তিনটি সাধারণ চাকু, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, অস্ত্র পরিষ্কারের মবিল ও ১২০ পিস ইয়াবা।
ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক রাজিবের নামে আগেও মাদক ও অস্ত্রের একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আরও পড়ুন-
ময়মনসিংহে জন্মদিনের কেক কেটে বাড়ি ফেরার পথে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত