Published : 09 Jun 2026, 01:01 PM
ময়মনসিংহে বন্ধুদের সঙ্গে নিজের জন্মদিন উদযাপন শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার রাতে গফরগাঁও পৌরশহরের মাজার রোড মোড় এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে গফরগাঁও থানার ওসি এএসএম আতিকুর রহমান জানিয়েছেন।
নিহত ২৪ বছর বয়সী নাহিয়ান রবিন স্থানীয় একটি সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং রাজমিস্ত্রী মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা বলছেন, মঙ্গলবার নাহিয়ান রবিনের জন্মদিন ছিল। এ উপলক্ষে সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে গফরগাঁও ডাকবাংলো চত্বরে কেক কাটার আয়োজন করে তার বন্ধুরা। সেখানে কেক কাটার অনুষ্ঠান শেষে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বন্ধু শাকিবুলের হাসান মাসুমের মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিল সে। বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে মাজার রোড মোড়ে পৌঁছানো মাত্রই আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ৬ থেকে ৭ জন সন্ত্রাসী তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা নাহিয়ান ও তার বন্ধুর চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে দেয়। এতে তারা সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেললে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাহিয়ানকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এ সময় নাহিয়ানের বন্ধু মোটরসাইকেলের চালক শাকিবুল কোনোমতে দৌঁড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে পারলেও রক্ষা পাননি নাহিয়ান। সন্ত্রাসীরা তাকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে মৃত ভেবে চলে যায়।
হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আশপাশের লোকজন, মাসুমের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা নাহিয়ানকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাহিয়ানের মৃত্যু হয়।
ঘটনার বর্ণনায় নাহিয়ানের বন্ধু শাকিবুল বলেন, “চোখের পলকে ওরা আমাদের চোখে মরিচের গুঁড়ো মেরে দেয়। আমরা কিচ্ছু দেখতে পারছিলাম না।
“ওই অবস্থাতেই ওরা হামলা চালায়। আমি কোনোভাবে দৌঁড়ে বাঁচলেও ওরা নাহিয়ানকে শেষ করে দিল।”
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা মোফাজ্জল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই ছেলেকে নিয়েই আমার বেঁচে থাকার সব স্বপ্ন ছিল। সন্ত্রাসীরা আমার সেই বুক খালি করে দিল, আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিল।”
ওসি আতিকুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি৷