সিরাজগঞ্জে অসময়ে যমুনায় ভাঙন, আতঙ্কে মানুষ

কোনো পদক্ষেপ নেই পাউবোর।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Jan 2023, 04:21 AM
Updated : 18 Jan 2023, 04:21 AM

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় অসময়ে যমুনা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে; এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিনানই থেকে চর সলিমাবাদ ভূতের মোড় প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে এ ভাঙন। তবে ভাঙনরোধে এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার, ৫০টি বসতবাড়িসহ ফসলি জমি।

হুমকির মুখে রয়েছে বিনাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সম্ভুদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সম্ভুদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পয়লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, চৌবাড়িয়া বিএম কলেজ ও বাঘুটিয়া কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চরসলিমাবাদ গ্রামের সানোয়ার হোসেন বলেন, “৬০ বছরে পৌষ মাসে নদী ভাঙে এমন দৃশ্য কোনোদিন দেখিনি। এরই মধ্যে আমার বাড়ির একাংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। পাউবো যদি বাঁধ দিত তবুও আমরা বাড়ির বাকি অংশে বসবাস করতে পারতাম।

“এখন তো মনে হচ্ছে, পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে। কিন্তু জায়গা-জমি তো আর নেই, কোথায় যাব। খুবই চিন্তার মধ্যে আছি।”  

বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিনানই গ্রামের জসিম উদ্দিন জানান, অসময়ে যমুনার ভাঙন শুরু হওয়ায় বসতবাড়ি, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হচ্ছে। অনেক কিছু হুমকির মুখে রয়েছে, কিন্ত ভাঙনরোধে পাউবো কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম মোল্লা বলেন, “চৌহালী উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ সবসময় নদী ভাঙনের হুমকিতে থাকেন। তবে এ বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গনরোধে বিনাইন এবং চরসলিমাবাদ গ্রামের ৯০০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেলেছিল পাউবো।

“কিন্তু নদীর পানি কমে যাওয়ার পর জিওব্যাগ ধসে গিয়ে আবারও নদীতীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। অসময়ে নদী ভাঙনের বিষয়টি পাউবো এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও ভাঙনরোধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, “ভাঙন স্থানগুলোতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে নির্মাণ কাজ শুরু হবে। বর্তমানে ভাঙনরোধে অস্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক