Published : 09 Oct 2022, 10:23 PM
বরিশাল নগরী থেকে এক ছাত্রদল নেতাকে ‘তুলে নেওয়ার’ অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার রাত ১০টার দিকে নগরীর ঈশ্বর বসু সড়কের প্রবেশ মুখ থেকে তাকে সাদা রংয়ের মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয় বলে দাবি ওই নেতার পরিবারের।
বরিশাল জেলা ছাত্রদলের ১ নম্বর সহসাধারণ সম্পাদক ফোরকান হোসেন ইরান উজিরপুর উপজেলার ধামুরা এলাকার আলম চাঁন সরদারের ছেলে। এ ছাড়া নগরীর গোড়াচাঁদ দাস সড়কে ভাড়া বাসায় থাকা ইরান বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ-এর বিবিএর ছাত্র।
তবে ইরানের নিখোঁজের বিষয়টিকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই আরাফাত হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পেয়েছি। অন্য একটি ঘটনা ঘটেছে; তবে এখন জানাবো না।”
তিনি আরও জানান, ছাত্রদল নেতার চাচাতো ভাই রাব্বি তাদের হেফাজতে আছেন; তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
“জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিষয়টি আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবো,” বলেন এসআই আরাফাত হাসান।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আজিমুল করিম একজন এসআইকে নিখোঁজের চাচাত ভাই রাব্বির সঙ্গে দিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পাঠান।
এদিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আগে রাব্বি সাংবাদিকদের জানান, তার মোবাইল ফোন অচল হওয়ায় শনিবার বিকালে বরিশাল নগরীতে আসেন। চাচাতো ভাই ও ছাত্রদল নেতা ইরানকে নিয়ে মোবাইল ফোন মেরামত করে রাত ১০টার দিকে গোড়াচাঁদ দাস রোডের ভাড়া বাসার উদ্দেশে রওনা দেন তারা।
পথে ঈশ্বর বসু রোডের প্রবেশমুখে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছলে একটি সাদা মাইক্রোবাস এসে তাদের গতিরোধ করে। মাইক্রোবাসে থাকা গেঞ্জি পরা লোকজন নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ইরানকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনার নাম কি ইরান?’ ইরান উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ।’ তখন তাদের সঙ্গে ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য ইরানকে মাইক্রোবাসে উঠতে বলেন। ইরান তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রাব্বির হাতে দিয়ে মাইক্রোবাসে ওঠেন।
রাব্বি আরও বলেন, “ভাইকে নেওয়ার পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে খবর দিয়ে স্বজনদের নিয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় গিয়ে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। জেলা ও মেট্রোপলিটন ডিবি কার্যালয়ে গিয়েও ইরানের সন্ধান মেলেনি। সেখানকার কর্মরতরা জানিয়েছেন, তারা এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না।”
“এ ঘটনায় সকালে কোতোয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে ওসি বিষয়টিকে অভিযোগ আকারে রেখে দেন।”
বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুল আলম মিঠু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি রহস্যজনক। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। ফুটেজে দেখা গেছে, ইরান হেঁটে বের হয়ে রাব্বির হাতে মোবাইল ফোন দিয়ে চলে গেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই; প্রশাসনের নজরে থাকার মতো কোনো কর্মকাণ্ডও সে করেনি।”
মিঠুর দাবি, “সামনে কমিটি হবে। সবার দৃষ্টি ও সহানুভূতি নেওয়ার জন্য সে সাজানো কোনো ঘটনা ঘটিয়েছে।”
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘটনার পর ইরানের নম্বর থেকে তাকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়।
“ইরানের চাচাতো ভাই রাব্বি পরিচয় দেওয়া ফোনকারীকে বিষয়টি তার (ইরানের) পরিবারকে জানাতে বলেছি। কিন্তু রাব্বি জানান, ইরানের বাবা ও মা দুজনই অসুস্থ। তাদের জানানো যাবে না। পরে অন্য আত্মীয়-স্বজন নিয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সকালে থানায় গিয়ে তারা অভিযোগ দিয়েছেন।”