১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নওগাঁয় ৪ খুন: আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, একজনের জবানবন্দি

বুধবার বিকালে নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারজনকে দাফন করা হয়।

নওগাঁ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Apr 2026, 10:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:28 PM

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় হত্যার শিকার একই পরিবারের চারজনকে দাফন করা হয়েছে। এদিন উত্তেজিত জনতা গ্রামের এক আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। 

বুধবার নওগাঁ সদর হাসপাতালে চারজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর বিকালে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারজনকে দাফন করা হয়। 

এর আগে সকালে এলাকার উত্তেজিত জনতা আসামি সবুজ রানার বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে গ্রামবাসী পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। এলাকায় পুলিশ রয়েছে। নিয়ামতপুর থানার ওসিকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে দুই শিশুসহ এক পরিবারের চারজনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।

তারা হলেন- ওই গ্রামের নমির হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী সুলতানা পপি (২৫), তাদের ছেলে পারভেজ (৯) এবং মেয়ে সাদিয়া রহমান (৩)।

নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নিহত সুলতানা পপির বাবা আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। 

এরই মধ্যে সেই মামলায় নিহত হাবিবুর রহমানের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম (৩০), তার ছেলে শাহিন হোসেন ও হাবিবুরের আরেক বোনের ছেলে সবুজ রানাকে (২০) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ওসি বলেন, “আসামি সবুজ রানা বুধবার বিকালে নিয়ামতপুর আমলি আদালতের বিচারক মুনাদিল হকের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি শহিদুল ও শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন। রিমান্ডের শুনানি আজ হয়নি। পরে হবে।”  

তবে এই মামলায় কতজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে তদন্তের স্বার্থে তা জানায়নি পুলিশ। 

এদিকে গ্রেপ্তার তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দাবি করেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ‘নিকটাত্মীয়ের পরিকল্পনায়’ একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে।

শুরু থেকেই পুলিশ চার হত্যাকাণ্ডের পেছনে জমিজমার বিরোধকে সামনে রেখে এগোচ্ছিল; তবে ঘরের দেয়ালে দলিল চেয়ে ‘খুনিদের’ লেখা একটি বার্তা সেই ধারণাকেই আরো উসকে দেয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘নমির তুই বেঁচে গেলি, দলিল দে। এবার তোর পালা।’

আরও পড়ুন:

'বাবা-ছেলের পরিকল্পনায়' নওগাঁয় এক পরিবারে চার খুন: দাবি পুলিশের

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা

নওগাঁয় ৪ খুনের পেছনে জমির বিরোধ?