শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ
এই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের একটি ভিডিও শুক্রবার রাতে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি টের পাওয়া যায়।
শরীয়তপুরে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ উঠেছে।
শরীয়তপুর শহরের শহীদ মিনারের ঠিক পাশেই এই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের একটি ভিডিও শুক্রবার রাতে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি টের পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা আহ্বায়ক মহসীন মাদবরের ফেইসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
১৭ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক স্মৃতিস্তম্ভটিতে অগ্নিসংযোগ করছেন। অগ্নিসংযোগের ফলে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এরপর তারা দৌড়ে চলে যায়।
পরে শনিবার সরেজমিনে স্মৃতিস্তম্ভটির চারটি স্থানে আগুনে পোড়ার চিহ্ন দেখা যায়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, “আওয়ামী লীগকে এ দেশ থেকে উৎখাত করা হয়েছে। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদেরকে দেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে।
“স্বাভাবিকভাবে তাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাই তারা শুধু স্তম্ভতে অগ্নিসংযোগ না, আরও অনেক কিছু করবে, যতদিন না পর্যন্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে। আমরা চাই যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”
জুলাই আন্দোলনে শরীয়তপুরে নিহত ১৪ জন শহীদের স্মরণে এই স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শরীয়তপুর শহরের শহীদ মিনারের ঠিক পাশেই কংক্রিটের তৈরি গাঁথুনির উপর লোহার মজবুত কাঠামোর স্মৃতিস্তম্ভটিতে শহীদদের নাম খোদাই করা আছে।
এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, “এটি মনে হয় না আজকে (শুক্রবার) অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) রওনক জাহান বলেন, “জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার একটি ভিডিও পুলিশের হাতেও এসেছে। আসলে সেখানে কী ঘটেছিল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, সেগুলোর ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
