Published : 24 May 2026, 07:29 PM
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় খাল খননের কারণে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে- এ অভিযোগে স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।
রোববার সকালে উপজেলার ধানখালী এলাকার খননকাজের পাশের জমিতে এ কর্মসূচি হয় বলে জানান স্থানীয় কৃষক জমির আলী।
এতে স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী খাল খনন বন্ধ, প্রকল্পের নকশা প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। তারা বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ খাল খনন না করে অপ্রয়োজনীয় খাল খনন বন্ধ করতে হবে।
স্থানীয় কৃষক জমির আলী বলেন, এলাকার মানুষ মূলত চাষাবাদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু খাল খননের কারণে আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে।

তার অভিযোগ, ১০ ফুট খাল কাটার কথা থাকলেও প্রায় ৪০ ফুট পর্যন্ত জমি ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।
ভূপতি ঘোষ নামে এক বাসিন্দা বলেন, কাজ শুরুর আগে কৃষকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্পের ঠিকাদারও এলাকায় আসেননি।
মজিদ সরদার দাবি করেন, গরিব কৃষকদের জমি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রভাবশালীদের জমি রক্ষা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার তদন্ত চান।
রবিউল পাঁড় বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ত পানির কারণে আগেই অনেক জমি অনাবাদি হয়ে গেছে। এখন বাকি উর্বর জমিও নষ্ট হলে কৃষকরা আরও বিপদে পড়বেন।
সেলিনা পারভিন ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
এনামুল গায়েন বলেন, পরিকল্পনা ছাড়া খাল খননের ফলে কৃষিজমি ও পরিবেশ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি কাজ বন্ধ করে নতুন পরিকল্পনার আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান।
মাধব দত্ত বলেন, প্রকল্পের নকশা, খরচের হিসাব ও অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করা উচিত এবং অভিযোগ তদন্ত করা দরকার।

মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
স্থানীয়দের দাবি, মানববন্ধনের খবর পেয়ে ঠিকাদার মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে ফোনে তিনি বলেন, তারা ফরিদপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি নিয়েছেন। অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।
অন্যদিকে, খননের তত্ত্বাবধানে থাকা জেলা বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের প্রকৌশলীর মো. ইবনে সিনাকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।