Published : 30 May 2026, 05:20 PM
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম চামড়ার হাট যশোরের রাজারহাট। কোরবানির ঈদের দুদিনের মাথায় শনিবার বসেছে প্রথম চামড়ার হাট। তবে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও জমেনি কেনাবেচা। চামড়ার মান ও দাম নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যেই ছিল অসন্তোষ।
বিশেষ করে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভাল মানের চামড়া ভাল দামে বিক্রি হচ্ছে। খারাপ চমড়ার দাম কম পাচ্ছে।
খুলনার ডুমুরিয়ার সরাফপুর দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, তিনি ৭২ পিস চামড়া নিয়ে এসেছেন। কিন্তু দাম এত কম যে, আনা-নেওয়ার খরচই উঠানো কঠিন।
একই কথা বললেন বাগেরহাটের আবু জাফর। তিনি বলেন, রাত ৩টার সময় উঠে ৮০ পিস চামড়া নিয়ে রাজারহাটে এসেছেন। কিন্তু এখানে এসে কোনো খরিদদার পাচ্ছেন না।
তার ভাষ্য, “এখানে সিন্ডিকেট করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা সব একত্রিত হয়ে চামড়ার দাম বলছেন ২০০, ২৫০, ৩০০ টাকা করে। আসলে আমাদের লস। আমরা অনেক কষ্ট করে এ চামড়া জোগাড় করে নিয়ে এসেছি।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজনিত নানা কারণে এখন ভালো মানের চামড়া পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী মমিনুল মালিক পলাশ বলেন, ঈদের মাত্র একদিন পরই হাট বসায় অনেকেই প্রস্তুতি নিতে পারেননি। ফলে চামড়া সংগ্রহ ও হাটে আনার পরিমাণও ছিল তুলনামূলক কম।
বৃহত্তর যশোর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “বাজারে ভালো বেগুন বিক্রি হয় ৮০ টাকা কেজি আর পোকা বেগুন বিক্রি হয় ১০ টাকা কেজি। তেমনি হয়েছে চামড়ার দাম। আজকে হাটে ভালো চামড়া এক হাজার, ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর কিছু মাঝারি মানের চামড়া সাড়ে ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দুই-একটা চামড়া আছে পক্স রোগাক্রন্ত গরুর। এগুলো মৌসুমী ব্যবসায়ীরা না বুঝে কিনে নিয়ে আসে। এসব চামড়ার কোনো দাম নেই।”
আরেক ব্যবসায়ী নেতা হাসিব চৌধুরী বলেন, “সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করে তা মূলত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ট্যানারির চামড়া কেনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মাঠ পর্যায়ের বাজারদর নির্ভর করে চামড়ার মান, সংরক্ষণ ও চাহিদার ওপর।
“ঈদের পর হাটে যারা চামড়া নিয়ে আসেন তাদের অধিকাংশই মৌসুমী ব্যবসায়ী বা বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে আসে। তারা চামড়ায় সঠিকভাবে লবণ প্রয়োগ করেন না। এতে করে চামড়ার মান কমে যায়। সেই সাথে কমে দামও।”
ব্যবসায়ীদের আশা, আগামী শনিবারের হাটে আরও বেশি চামড়া আসবে এই হাটে।