১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রে ধরা ৯০ কেজির বাঘাইড়, ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী বাঘাইড় মাছ একটি মহাবিপন্ন প্রাণী এবং সংরক্ষিত প্রজাতি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Oct 2026, 01:06 PM

Updated : 17 Oct 2026, 01:06 PM

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের পুটিমারী এলাকায় স্থানীয় এক জেলের জালে ৯০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ ধরা পড়েছে।

বিপন্ন এই প্রজাতির মাছ ধরা বিপণন এবং ভোক্তাদের কাছে বিক্রি আইনে নিষিদ্ধ থাকলেও মাছটি ধরার পর দীর্ঘ সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নির্বিকার ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে শনিবার মাছটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

থানাহাট বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সাজু মিয়া বলেন, শুক্রবার দুপুরে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের পুটিমারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে জেলে নরেন্দ্র নাথের জালে ৯০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছটি ধরা পড়ে। তার কাছ থেকে মাছটি ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় তিনি কিনে নেন।

পরে ওই দিন রাতে চিলমারী উপজেলার পেট্রোল পাম্পমোড় এলাকায় মাছটি কেটে প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় খুচরা বিক্রি করেন সাজু মিয়া।

এ সময় বিশাল আকৃতির মাছটি দেখতে পাম্পমোড় এলাকায় ক্রেতাসহ উৎসুক জনতা ভিড় জমান।

তিনি বলেন, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমে যাওয়ায় জেলেদের জালে প্রায়ই বিভিন্ন ওজনের বাঘাইড়, পাঙাশসহ দেশীয় প্রজাতির বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। বাজারে এসব মাছের চাহিদাও প্রচুর।

আইনত এই মাছ ধরা এবং বিক্রি করা নিষেধ এই তথ্য তার জানা নেই বলে দাবি করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ঘাট থেকে এমন বড় মাছ কিনে এনে কেটে কেটে খুচরা বিক্রি করেন।

আরেক মাছ ব্যবসায়ী ফুলমিয়া বলেন, বড় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা তার কাছ থেকে আগে থেকেই অর্ডার দিয়ে এসব মাছ কেনেন।

ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ কেউ চাইলে তাদের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিপন্ন প্রজাতির মাছ ধরায় ব্যবস্থার বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. এমদাদুল হক বলেন, “মাছটি ধরার খবর শনিবার পেয়েছি। আমরা জেলেদের সচেতন করছি। তারপরও চুপিসারে ধরা হচ্ছে।”

আইনত এ জাতীয় মাছ ধরা নিষেধ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী বাঘাইড় মাছ একটি মহাবিপন্ন প্রাণী এবং সংরক্ষিত প্রজাতি। তাই বাঘাইড় মাছ শিকার, কেনাবেচা, পরিবহন, মজুদ বা নিজের দখলে রাখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য দোষী ব্যক্তি সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দন্ডিত হতে পারেন।

নদে এ ধরনের মাছের বংশবিস্তার ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।