Published : 23 Apr 2026, 08:51 PM
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক ছাত্রী হলের খাবার খেয়ে ৭০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের ৪০ শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে এসেছেন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের এম আর খান মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক তারিক হাসান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলে ১৬৬ শিক্ষার্থী রাতের খাবার খান। তাদের মধ্যে কমবেশি ৭০ জনের মত অসুস্থ হয়েছেন। ভোর ৪টা থেকে তারা অসুস্থ হতে শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে মেডিকেল সেন্টার খুললে বীর প্রতীক তারমন বিবি হল থেকে একের পর এক ছাত্রী গিয়ে চিকিৎসা নিতে থাকেন। দুপুরে অসুস্থ ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খান চিকিৎসক ও সহকারীরা। তবে এ সময় চিকিৎসা কেন্দ্রের দুজন চিকিৎসককে দায়িত্বে পাওয়া যায়নি বলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
হলের ডাইনিংয়ের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাদের ভাষ্য, দুপুরের রান্না করা খাবার রাতে গরম করে পরিবেশন করা হয়, ফলে অনেক সময় খাবার থেকে দুর্গন্ধ আসে। ডাল ও তরকারিতে মুরগির পালক, চুলসহ বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর উপাদান পাওয়ার ঘটনাও ঘটে। প্লেট ও বাটি অনেক সময় অপরিষ্কার থাকে। এ ছাড়া ডাইনিংয়ের আশপাশে বিড়ালের উপদ্রবও আাছে, তারা খাবারে মুখ দেয় মাঝে মাঝে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এম আর খান মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক তারিক হাসান বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ শিক্ষার্থী পেয়েছি, যাদের অসুস্থতার লক্ষণ প্রায় একই রকম। বুধবার রাতে তারা হলের ডাইনিংয়ে ভাত, মাংস, ভর্তা এবং ডাল খেয়েছিলেন। সম্ভবত সেখান থেকে পয়জনটি ছড়িয়েছে। সবাই পেটে ব্যথা, বমি এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত।
“ডায়রিয়াজনিত কারণে অনেকের শরীরে ফ্লুইডের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। যার কারণে তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমাদের স্বল্প পরিসরে এবং স্বল্প উপাদানের মাধ্যমে রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।”
চিকিৎসক বলেন, “কিছু রোগীর অবস্থা একটু জটিল আকার ধারণ করেছে। আমরা তাদেরকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। তাদের অবস্থা আরও খারাপের দিকে গেলে হয়ত এখানে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। তখন উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।”
হলের ছাত্রীদের অসুস্থতার বিষয়ে বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আফরোজা খাতুন বলেন, “সহকারী হল প্রভোস্টকে পাঠিয়েছি মেডিকেল সেন্টারে। শহরে থাকায় যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। অসুস্থ ছাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা চেষ্টা করছি। আর হলের ডাইনিংয়ের যে বিষয়টি, সেটি হল বুধবার দুপুরে আমিও ডাইনিংয়ে খাবার খেয়েছি। রাতের খাবারে আসলে কী হয়েছে এখনো জানতে পারিনি।”