রাকসু: প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি
“আমরা শিক্ষার্থীদের পালস বোঝার চেষ্টা করি। প্রথম বর্ষের অনেকেই আমাদের অনুরোধ করেছে যেন তারা রাকসুতে ভোটাধিকার পায়।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসু নির্বাচনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ এনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল।
সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের পালস বোঝার চেষ্টা করি। প্রথম বর্ষের অনেকেই আমাদের অনুরোধ করেছে যেন তারা রাকসুতে ভোটাধিকার পায়।
“তাদের দাবি পূরণ করতেই এই আন্দোলন। এখানে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।”
সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে রোববার ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। নারী কর্মীরাও হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
“প্রশাসনকে এ ঘটনার দায় স্বীকার করতে হবে এবং আমাদের দাবি মেনে নিতে হবে। দাবি মানলেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে, নইলে প্রতিবাদ চলবে।”
রোববার রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদলের কয়েকজন নারী কর্মী হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ তোলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
সহ-সভাপতি সাবিহা আলম মুন্নি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলাম। হঠাৎ একদল শিক্ষার্থী এসে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তর্ক শুরু করে।
“একপর্যায়ে কথা বলতে গেলে এক নারী কর্মীর হিজাব ছিঁড়ে ফেলে। পরে আমাদের অন্যান্য নারী কর্মীদের সঙ্গেও ধস্তাধস্তি করা হয়।”
ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জান্নাতুন নাঈম তুহিনা বলেন, “আমাদের কষ্ট হলো, যাদের সঙ্গে জুলাইয়ে একইসঙ্গে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, সেই সমন্বয়ক পরিচয়ধারী শিবিরের 'বি টিম' রোববার আমাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতদিন তারা বিভিন্ন ‘বট আইডি’ দিয়ে অনলাইনে সাইবার বুলিং চালাতো, গতকাল সেটা সরাসরি করেছে।”
এর আগে রোববার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও, ভাঙচুর ও তালাবদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদল কর্মীরা। পরে ছাত্রশিবির, সাবেক সমন্বয়ক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেখানে গেলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
বেলা পৌনে ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করলে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। মুখোমুখি ধস্তাধস্তির ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন।
গত ২৮ জুলাই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। চতুর্থবারের মতো সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র বাছাই ৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর, প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ ৮ সেপ্টেম্বর, আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি ৯ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ১০ সেপ্টেম্বর এবং ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
রাকসু ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে এবং হল সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংশ্লিষ্ট হলের প্রশাসনিক কার্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ভবনে ভোটগ্রহণ হবে। সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
আরও পড়ুন:
