Published : 31 Aug 2025, 09:28 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসু নির্বাচনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে ডাকা জরুরি মতবিনিময় সভা ওয়াকআউট করেছে ছাত্রদল ও গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট।
রোববার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাকসু প্রার্থী ও সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিয়ে আয়োজিত সভায় এ ঘটনা ঘটে।
নির্বাচন কমিশন জানায়, পূর্বনির্ধারিত তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বরেই ভোটগ্রহণ হবে। তবে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে সোমবার।
ওয়াকআউটের কারণ হিসেবে শাখা ছাত্রদল অভিযোগ করে, সভায় আলোচনার পরিবেশ ছিল না। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট জানায়, ৫ অগাস্টে মশাল মিছিলে হামলার সঙ্গে জড়িতরা আলোচনায় অংশ নেওয়ায় তারা সভা বর্জন করেছে।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “আলোচনায় গিয়ে দেখি, তারা বাংলাদেশপন্থি কমিশনার নন, তারা ‘পাকিস্তানপন্থি কমিশনার’। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই-অগাস্টের চেতনা এই প্রশাসন ধারণ করে না। তাই সভা বর্জন করে বের হয়ে এসেছি।”

গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের সংগঠক ও শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “৫ অগাস্টের পর গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মশাল মিছিলে হামলা চালায় ছাত্রশিবির সমর্থিত একটি গোষ্ঠী। হামলায় চিহ্নিত ব্যক্তিরা আজ সভায় বক্তব্য দিচ্ছে।
“প্রশাসন সেটি গ্রহণও করছে। আমরা এমন সন্ত্রাসীদের সঙ্গে একই হাউজ শেয়ার করতে পারি না, তাই সভা বর্জন করেছি।”
এর আগে সকাল থেকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবিতে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে ছাত্রশিবির, সাবেক সমন্বয়ক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেখানে গেলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। দুপুর পৌনে ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করলে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়।
পরে বিকালে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। ছাত্রদল যেখানে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানায়, সেখানে শিবিরের দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হলেও নির্বাচন পূর্বনির্ধারিত তারিখেই অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতা রাহী বলেন, “আজকে আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলাম। কিন্তু এখানে সাধারণ শিক্ষার্থী নামধারী কিছু শিবির কর্মী এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
“প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের রাকসুতে অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকার চাই। এ ছাড়া যারা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এটাই আমাদের দাবি।”
ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, “আমরা ছাত্রদলের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। কিন্তু আমরা নির্বাচন পেছানোর পক্ষে নই। ছাত্রদলের এই দাবিটি আমরাও প্রশাসনকে বহু আগেই জানিয়েছি।
তবে আজকের উদ্ভূত পরিস্থিতির পেছনে প্রশাসনকে দায়ী করছি। তাদের উদাসীনতাই আজ এই পরিস্থিতিতে আমাদের এনেছে।”
মতবিনিময় সভার বিষয়ে রাকসুর নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, “ভোটের তারিখ ঠিক থাকবে। তবে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কমিশন কাল সভায় সিদ্ধান্ত নেবে। আপাতত মনোনয়নপত্র বিতরণ স্থগিত আছে।”
এর আগে ২৮ জুলাই রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। চতুর্থবারের মতো সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী আজ মনোনয়ন বিতরণ শেষ হয়েছে। ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র বাছাই ৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর, প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ ৮ সেপ্টেম্বর, আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি ৯ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ১০ সেপ্টেম্বর এবং ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
রাকসু ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে এবং হল সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংশ্লিষ্ট হলের প্রশাসনিক কার্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করা যাবে।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ভবনে ভোটগ্রহণ হবে। সেদিনই ফল ঘোষণা করা হবে।