১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পাখির বাসায় দেবী দুর্গা

“পাখি, পাখির আবাসস্থল এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করার থিম দিয়ে আমরা এবার মণ্ডপ সাজিয়েছি। যেন ধর্মীয় পূণ্যকর্মের সঙ্গে সঙ্গে সবাই পাখি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন হয়।”

শেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Sep 2025, 03:46 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:22 PM

শেরপুর শহরের কালীরবাজার মা ভবতারা কালীমন্দির চত্বরে নজর কাড়ছে ব্যতিক্রমী এক দুর্গামণ্ডপ।

পরিবেশ-প্রকৃতি আর পাখি সংরক্ষণের বার্তা ছড়াতে পরিত্যক্ত বাক্স, কার্টনের কাগজ, নারকেলের ছোবড়া, পাট আর কাঠের গুড়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব উপাদানে মণ্ডপটি সাজিয়েছে স্থানীয় ‘মার্চেন্ট ক্লাব’ নামের একটি সংগঠন।  

পূজা শুরুর আগে থেকেই মণ্ডপ ঘিরে ভক্ত ও দর্শণার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ভিন্ন থিমে তৈরি মণ্ডপটি এক নজর দেখতে ভবতারা কালিমন্দিরে চত্বরে ভিড় করছেন অনেকে। 

সময়োপযোগী থিম ও পরিবেশবান্ধব উপাদান দিয়ে দুর্গা মণ্ডপ তৈরি করার জন্য মার্চেন্ট ক্লাব কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা। 

‘মার্চেন্ট ক্লাবের’ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন কারুয়া বলছেন, প্রকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় পাখিদের প্রয়োজনীতার বিষয়টি তারা পূজা মণ্ডপের সাজসজ্জার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। 

পূজা চলাকালীন সময়ে ভবতারা কালিমন্দিরে চত্বরে ‘উপচে পড়া’ ভিড় হবে বলে ধারণা তার। 

ক্লাবের সভাপতি বিপ্লব সরকার জানান, শহরের নয়ানী বাজার-কালিরবাজার-তিনানী বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে গড়া ‘মার্চেন্ট ক্লাব’ প্রতিবছরই ভিন্ন ভিন্ন থিমে দুর্গা পূজার আয়োজন করে। ৫২ বছর ধরে দুর্গোৎসবের আয়োজন করছেন তারা। 

আয়োজকরা বলছেন, গৌড় মালাকার ও নিতাই মালাকার নামের প্রতিমা কারিগর দুই ভাই মার্চেন্ট ক্লাবের এ ব্যতিক্রমী দুর্গা মণ্ডপটি তৈরি করেছেন। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারের মণ্ডপ পাখি সুরক্ষা, পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়কে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, মণ্ডপে প্রবেশের পথে পাখির পালকের মোটিফ তৈরি করা হয়েছে। দেবী দুর্গাসহ অন্য প্রতিমাগুলো যে বেদীতে বসানো হয়েছে, তার চারপাশ তৈরি করা হয়েছে নারকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি বাবুই পাখির বাসার আদলে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে দুর্গা বসে আছেন পাখির বাসায়!  

মণ্ডপের তিন পাশেই পরিত্যক্ত বাক্স, কাঠের গুড়া আর কার্টনের কাগজ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অনেকগুলো পাখির বাসা। সেখানে কাগজে তৈরি করা হয়েছে বাসায় আশ্রয় নেওয়া এবং উড়ে বেড়ানো শত শত পাখির মোটিফ। 

মণ্ডপের সাজসজ্জায় পাখির পালক ব্যবহার করে দেবীপক্ষের আগমনকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মণ্ডপ তৈরিতে পাখি সংরক্ষণের বার্তা কেন? জানতে চাইলে মার্চেন্ট ক্লাবের সভাপতি বিপ্লব সরকার বলেন, “পাখি আজ বিলুপ্তির পথে। নগর সভ্যতার কারণে পাখির আবাসস্থল আমরা নিজেরাই নষ্ট করে ফেলেছি। পাখির আবাসস্থল রক্ষার জন্য আমার-আপনার সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। 

“এই পাখি, পাখির আবাসস্থলকে এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করার থিম দিয়ে আমরা এবার আমাদের পূজা মণ্ডপ সাজিয়েছি। যেন ধর্মীয় পূণ্যকর্মের সঙ্গে সঙ্গে সবাই পাখি, প্রকৃতি, পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন হয়।” 

ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন কারুয়া বলেন, “প্রতিবারের মত এবারও মার্চেন্ট ক্লাব ব্যতিক্রম ধর্মী আয়োজন করেছে। এবার পাখি ও পাখির আবাসস্থল সুরক্ষা এবং প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দিয়ে পূজামণ্ডপ তৈরি করায় ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। 

“বর্তমানে যত্রতত্র গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। পাখির অভয়ারণ্য না থাকার কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।” 

তিনি বলেন, “আমরা পূজা মণ্ডপের মাধ্যমে বুঝাতে চাইছি প্রকৃতিক পরিবেশ রক্ষার জন্য পাখিদের প্রয়োজন আছে। আমাদের পূজা মণ্ডপে ব্যবহার করা হয়েছে পরিত্যক্ত বাক্স আর কার্টনের কাগজ, তুলা, নারকেলের ছোবড়া, পাট ও কাঠের গুড়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব উপকরণ।”

মার্চেন্ট ক্লাবের প্রচার সম্পাদক শান্তনু পাল বলেন, “আমাদের মার্চেন্ট ক্লাবের পক্ষ থেকে আমরা বরাবরই নতুনত্ব কিছু করার চেষ্টা করি। এবার আমরামণ্ডপ সাজাতে প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করেছি, যা ইতোমধ্যে সব ধরনের দর্শনার্থীদের মন কেড়ে নিয়েছে।” 

তার ভাষ্য, ভিন্ন ধরনের এই থিমে সবাই অত্যন্ত আনন্দিত। তাদের কাজ সবাই উপভোগ করছে।