Published : 14 Sep 2025, 04:27 PM
বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পুনবর্হালের দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা সরকারি অফিসগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রোববার সকাল ৯টায় আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা জজ আদালতের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে তাদের কর্মসূচি পালন করে। এতে সরকারি অফিসগুলোর দিনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। অবস্থান কর্মসূচিতে বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ ও বিচারপ্রার্থীরা। অফিসগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল কম।
এদিকে সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া হরতাল কর্মসূচিতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে আন্দোলনে থাকা সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সমন্বয়ক ও সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির কো-কনভেনর এম এ সালাম বলেন, “সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে আগামী তিন দিনের হরতাল কর্মসূচির কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। সোমবার প্রথম দিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হবে।
“এরপর মঙ্গল ও বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হরতাল হবে। এই হরতাল চলাকালে অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে। তবে হাটবাজারের দোকান-পাট ও ছোট ছোট যানবাহন হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।”
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একটি ভেঙে তিনটি করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। এরপর থেকে বাগেরহাটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন আসন ফিরে পেতে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছে।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া থেকে জেলা জজ আদালতে আসা খবির উদ্দিন বলেন, “জমি-সংক্রান্ত একটি মামলা চলছে দেওয়ানি আদালতে। এই মামলার শুনানির তারিখ ছিল আজ। এখানে এসে দেখি, ফটক আন্দোলনকারীরা আটকে রেখেছে। ঢুকতে পারিনি। আজ আমার শুনানি হবে না বলে শুনছি।”
পাশের জেলা পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে আদালতে আসা বন মামলার আসামি ফিরোজ মিঞা বলেন, “মামলার হাজিরার তারিখ ছিল আজ। টাকা খরচ করে এসে দেখি আন্দোলনকারীরা অফিসের সামনে অবস্থান নিয়েছে। আমার আইনজীবীও আদালতে আসেননি। আমার আজ হাজিরার শুনানি হবে বলে মনে হয় না। আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে হয়রানিতে পড়েছি।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি বাগেরহাটের চারটি আসন পুনর্বহালের দাবিতে হরতালসহ চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর আগে তারা দুই দফা হরতাল, অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।