১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চুরি করতে গিয়ে শিশুকে হত্যার দায়ে জামাই-শ্বাশুড়ির যাবজ্জীবন

ফেনীর এপিপি জানান, গৃহকর্মী সফুরা বাড়ির সবার খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তার মেয়ে জামাইকে চুরি করতে আনলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ফেনী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Apr 2023, 08:17 PM

Updated : 11 Apr 2023, 12:18 PM

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ছয় মাসের শিশুকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে জামাই ও শাশুড়িকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুরে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ মো. কায়সার মোশাররফ ইউসুফ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) দ্বিজেন্দ্র কুমার কংস বণিক।

দণ্ডিতরা হলেন- সফুরা খাতুন (৪৫) উপজেলার চরডুব্বা গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের স্ত্রী এবং তার মেয়ে জামাই মো. সেলিম খাঁন (৪০) ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আবদুল খালেকের ছেলে।

মামলার বরাত দিয়ে এপিপি জানান, ২০১১ সালের ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে উপজেলার চরগনেশ গ্রামের দুবাই প্রবাসী নুর মোহাম্মদ সোহেলের বাড়িতে সবার খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে চুরির ফন্দি আটে গৃহকর্মী সফুরা খাতুন। বাড়ির সকলে ঘুমিয়ে পড়লে তার মেয়ের জামাই সেলিম ঘরে ঢুকে গহনা ও নগদ টাকা চুরি করেন।

বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে সেলিম দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন প্রবাসীর মা আয়েশা আক্তার নিলুফা, বোন তাহমিনা আক্তার ও বোনের মেয়ে আসমা আক্তার তানিশাকে।

পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৩০ অক্টোবর সকালে শিশু তানিশার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ওইদিন দুবাই থেকে দেশে ফিরে সোনাগাজী মডেল থানায় হত্যা ও চুরির মামলা করেন প্রবাসী সোহেল।

ওই মামলায় গৃহকর্মী সফুরা খাতুন ও মো. সেলিম খাঁন গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

২০১২ সালের ১৬ অগাস্ট সোনাগাজী থানার এসআই শ্রীবাস চন্দ দাস আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত অভিযোগপত্র আমলে না নিয়ে পুনরায় তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেয়।

পরে ২০১৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর সিআইডির পরিদর্শক নুরুল ইসলাম দুজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র  জমা দেন।

২০১৪ সালের ৫ মে আদালত মামলার বিচারকার্য শুরু করে। এরপর আদালত এ রায় ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার সময় আসামি সফুরা খাতুন পলাতক ছিলেন।

আদালতের রায়ে মামলার আসামি সফুরা খাতুনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং সেলিম খাঁনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।

ফেনী আদালত পুলিশের পরিদশর্ক গোলাম জিলানী জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসমি মো. সেলিম খাঁনকে ফেনী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।