Published : 19 May 2026, 09:22 PM
মাদারীপুরে ভাড়া বাসায় এক দম্পতি ও তাদের শিশুর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার মাদারীপুরের ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের মর্গ থেকে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে এ কথা বলেন সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ।
তিনি বলেন, “পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, মানসিক সমস্যার কারণে স্বামী প্রথমে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করেন, পরে তিনি নিজে আত্মহত্যা করেন।”
রোববার গভীর রাতে শহরের আমিরাবাদ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের আট মাসের শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের চিন্ময় শিকদার (২৭), তার স্ত্রী ইশরাত জাহান সাইদা ওরফে ইশা শিকদার (১৯) এবং তাদের আট মাসের শিশু সন্তান।
পুলিশ জানায়, চিন্ময় ২০২৪ সালে ঢাকায় পড়াশোনার সময় নেত্রকোণার কেন্দুয়া এলাকার ইশরাত জাহান সাইদাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি ইশা শিকদার নাম ধারণ করেন। তারা ঢাকাতেই থাকতেন।
ইশা অসুস্থ থাকায় চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হয়। এতে চিন্ময় ঋণে জড়িয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
চিন্ময়ের বাবা সদর উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকার যতন শিকদার (৪৫)। তিনি দ্বিতীয় করেন মিষ্টি আক্তারকে। মিষ্টি আক্তার মানুষের কাছে মিষ্টি শিকদার বলে পরিচয় দিতেন। যতন তার প্রথম স্ত্রী অর্থাৎ চিন্ময়ের মাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি থাকতেন। আর মিষ্টি আক্তার শহরের ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ঘটনার দিন চিন্ময় তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ঢাকা থেকে মাদারীপুরে মিষ্টি আক্তারের ভাড়া বাসায় আসেন।
সেদিন সন্ধ্যায় মিষ্টি আক্তার বাজারে যান। রাত ৯টার দিকে ফিরে এসে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে রাত ২টার দিকে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এ সময় চিন্ময় ও তার শিশুকন্যাকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং তার স্ত্রী ইশাকে বিছানায় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে পুলিশ তিনজনের লাশ উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ওসি বলেন, “চিন্ময় শিকদারের সৎ মা মিষ্টি আক্তার ঘটনার সময় ভুল তথ্য দেন। তিনি প্রথমে নিহতদের দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিলেন।
“পুলিশের ধারণা, তিনটি লাশ দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় এ ভুল তথ্য দেন। পরে তদন্তে আসল পরিচয় জানা যায়।”
এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে মিষ্টি আক্তারকে তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আদালতের মাধ্যমে সেফ কাস্টডিতে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মাদারীপুরে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সন্তানসহ দম্পতির লাশ উদ্ধার