Published : 11 Dec 2025, 10:15 PM
শরীয়তপুর সদরে বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া এক নারীকে বন বিভাগের বাগানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ মামলা করা হয়েছে।
মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে; যাদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী নারী বুধবার রাতে সদর উপজেলার পালং মডেল থানায় মামলাটি করেন বলে জানান পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ঠেঙ্গামাড়া এলাকার মারুফ হাওলাদার (১৮), শরীয়তপুর সদরের পূর্ব কাশাভোগ এলাকার নাফিজ বেপারী (২২), একই এলাকার সাইফুল খান (২২) এবং পশ্চিম পরাসর্দ্দি এলাকার সিফাদ ভূঁইয়া (২০)।
মামলায় বলা হয়েছে, মঙ্গলবার এক বন্ধুর সঙ্গে মাদারীপুর লেকপাড়ে ঘুরতে যান ওই নারী। সেখান থেকে শরীয়তপুর সদরের একটি হোটেলে খাবার খেয়ে তারা শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুজন যুবক তাদের সম্পর্কের কথা জানতে চান।
এক পর্যায়ে তারা ওই নারীর বন্ধুকে চড়-থাপ্পড়, কিলঘুষি দিলে, তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর ওই নারীকে বন বিভাগের ভেতরে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে থাকা আট থেকে নয়জন ওই নারীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
এক পর্যায়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় বলা হয়েছে। এ সময় অন্যরা ঘটনা ভিডিও ধারণা ও ছবি তোলেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর। এ ছাড়া ঘটনাটি কাউকে বললে তা ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেন তারা। পরে ওই নারীকে সড়কে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কিছুক্ষণ পর আরেকটি জায়গায় আটকে রাখা তার বন্ধুকেও নেওয়া হয়। সেখানে তাদের রেখে পালিয়ে যায় নির্যাতনকারীরা।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সদস্যরা দুজনকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। তারা এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, “যারা আমার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমার বন্ধুও জড়িত থাকলে, তারও বিচার দাবি করছি।”
শরীয়তপুর জেলা বন বিভাগের বাগান মালি জাকির হোসেন বলেন, “মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বন বিভাগের ভেতর একটি ছেলে আরেকটি ছেলের কাছে হাত জোর করে ক্ষমা চাচ্ছিল। আমি কাছে গেলে আমাকে তাড়িয়ে দেয়।
“কিছুক্ষণ পর দেখি, বাগান থেকে বোরকা পরা একজন নারী বের হচ্ছেন, আমাকে জিজ্ঞেস করল- রাস্তা কোন দিকে। পরে আমি রাস্তা দেখিয়ে দেই। রাত ১২টার দিকে আট থেকে ১০ জন লোক এসে আমার স্যারকে বকাঝকা করে ও অফিসের দরজায় লাথি মারে। পরে আমি বাসা থেকে বের হয়ে আসলে তারা আমাকে মারধর করেন।”
শরীয়তপুর এসডিএসের নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম বলেন, “ওই নারীর ওপর নির্যাতন হয়েছে। তবে কী ধরনের নির্যাতন হয়েছে, তা আদালত নির্ধারণ করবে। যারা নির্যাতন করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার।”
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মিতু আক্তার বলেন, “ওই নারী সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমরা তার মেডিকেল পরীক্ষা করেছি। যেহেতু তিনি বিবাহিত, তাই ডিএনএ পরীক্ষার রেজাল্ট পাওয়ার পর বলতে পারব তার সঙ্গে কী হয়েছিল।”
ওসি শাহ আলম বলেন, বুধবার রাতে ওই নারী দেওয়া অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।