Published : 10 Dec 2025, 03:23 PM
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় পরীক্ষা শেষে সহপাঠীর সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে এক তরুণীকে মারধর করে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া তার সহপাঠীকেও মারধরের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের বনবিভাগের কার্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান পালং মডেল থানা ওসি শাহ আলম।
ভুক্তভোগী তরুণী নিজেকে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেছেন। তিনি বর্তমানে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, মঙ্গলবার বিকালে পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুকে নিয়ে শহরের মনহর বাজার মাটি হাড়ির রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া শেষে গাড়ির অপেক্ষায় হাঁটতে হাঁটতে বনবিভাগের কাছে পৌঁছান। এ সময় কয়েকজন তাদের পথরোধ করেন। এক পর্যায়ে তাদের বনবিভাগের মধ্যে নিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে থাকা ছেলেটিকে মারধর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
এরপর আট থেকে ১০ জন যুবক ওই তরুণীকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসার জন্য বলেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে দুই ঘণ্টা আটকে যৌন হয়রানিসহ ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে তাকে মারধরও করা হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
এ সময় স্থানীয় দুই যুবক পাশ দিয়ে যাওয়া সময় ওই তরুণী তাদের কাছে সহায়তা চান। ঘটনাটি শুনে তারা পালং মডেল থানা-পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।
ওই তরুণীর সঙ্গে থাকা সহপাঠী বলেন, “গাড়ির অপেক্ষায় হাঁটতে হাঁটতে বনবিভাগের কাছাকাছি আসলে প্রথমে দুই বখাটে এসে আমাকে নাম জিজ্ঞাসা করে এবং বাড়ি কোথায় জানতে চায়। এ ছাড়া তারা আলাদাভাবে ছাত্রীকে জিজ্ঞাসবাদ করেন। এরপর আমাকে মারধর করা হয়।
“পরে দুজনকে জোর করে বনবিভাগের পাশে নিয়ে যান তারা। এ সময় তারা আমাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আটকে রাখেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে আট থেকে ১০ জন বখাটে ওই ছাত্রীর ধর্ষণের চেষ্টা করেন।”
ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, “আমাকে মারধরসহ ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। বাঁচার জন্য ডাক-চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসে নাই। এ সময় বনবিভাগের ভিতরে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঘটনাস্থলের পাশে দুই নারী ছিল। তবুও তারা উদ্ধার করতে আসেনি।”
মেয়েটিকে উদ্ধারে সহায়তা করা স্থানীয় বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন বলেন, “আমি মনোহর বাজার থেকে বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ দেখি কয়েকজন বখাটে মেয়েটির সঙ্গে বসে আছে। আমি মেয়েটার কাছে যাওয়া মাত্রই তিনি আমার পা চেপে ধরে বলেন, আমাকে বাঁচান।
“পরে তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত শুনি। এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের এলাকার দু-একজন থাকতে পারে। এ ছাড়া পাশের এলাকার ১০ থেকে ১২ মিলে তাদের আটক করেছিল। পরে পুলিশকে ফোন করি।”
ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ রাব্বি।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক খন্দকার রাশেদ আহম্মেদ বলেন, “মেয়েটি জানিয়েছেন, তাকে মারধর ও যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে। নারী চিকিৎসক দিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।”
ওসি শাহ আলম বলেন, “মেয়েটি রাতে নিজেকে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। সকালে বলছেন, অন্য কথা। তিনি বাড়ির ঠিকানাও ভুল দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বে সঙ্গে তদন্ত করছি।”