Published : 16 Jul 2026, 09:19 PM
উত্তরাঞ্চলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য বেশি হওয়ায় সরকার ‘ইচ্ছা করে’ উন্নয়ন বাজেট কমিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
কুড়িগ্রামের এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, “এই উত্তরাঞ্চলে বেশিরভাগ এমপি যেহেতু বিরোধী দলের, ফলে পরিকল্পিতভাবে কুড়িগ্রাম-রংপুরের বড় বড় উন্নয়ন বাজেট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বড় কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয় নাই। এইভাবে জনগণকে অধিকার বঞ্চিত করছে এই সরকার। আমরা এটা মেনে নেব না।”
নাহিদ বলেন, “আমরা মনে করি, উত্তরাঞ্চলের মানুষ জুলাই গণঅভ্যূত্থানে জীবন দিয়েছে, তারা ভোট দিয়ে ১১ দলকে জয়যুক্ত করেছে; আমরা তাদের ভোটাধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার- সবকিছু রক্ষা করব, এটা আমাদের দায়িত্ব। এটা আপনাদের কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি। ইলেকশনের আগে আমরা ওয়াদা দিয়েছি, জাতীয় সংসদে আমরা সে কথা তুলে ধরব।”

কুড়িগ্রামের টগরাইহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এনসিপির উদ্যোগে এক কৃষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে দেশব্যাপী জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশের অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ রংপুরের আবু সাঈদকে স্মরণ এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ বাহিনী রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করেছিল। আবু সাঈদ দুহাত প্রসারিত করে এই গণঅভ্যুত্থানের যাত্রা শুরু করেছিলেন। আবু সাঈদ একজন কৃষকের সন্তান ছিলেন।”
জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও নেতৃত্বের বেশিরভাগ কৃষকের সন্তান- এমন মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “কিন্তু আমরা দেখি কৃষকরা সংগঠিত নয়, তাদের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে, কথা বলার জন্য কোনো শক্তিশালী সংগঠন নেই। যেসব সংগঠন আছে তারা কৃষকের পক্ষে কথা বলে না। নতুন সরকার কৃষকদের ন্যায্যমূল্য দিচ্ছে না, ফলে কৃষকরা কৃষিতে আগ্রহ হারাচ্ছে। কৃষি কাজ তারা ছেড়ে দিচ্ছেন। উত্তরবঙ্গের যে অর্থনৈতিক বৈষম্য এই সরকার তা দূর করতে পারেনি।”
তিনি বলেন, “তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কোনো অর্জন নিয়ে ফিরে আসতে পারেননি।”
সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “কৃষকরা আজ বাজারে বৈষম্যের শিকার। অধিকাংশ কৃষক বাজারে ন্যায্যমূল্য পান না। কৃষকরা নানা সময় ঋণ নেন। সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না বলে, আমরা অনেক জায়গায় দেখেছি, আমাদের কৃষকরা আত্মহত্যা করেন।
“এই বাংলাদেশে অনেকে আছেন যারা হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপী। অথচ আমাদের কৃষকদের ১০-২০ হাজার টাকা ঋণের জন্য আত্মহত্যা করতে হয়। বড় লজ্জার বিষয়! বড় দুঃখের বিষয়! আমাদের কৃষিকে আধুনিকায়ন করতে হবে। নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে হবে।”
‘কৃষকের শক্তি, জাতীয় মুক্তি’ এই স্লোগানে এই সমাবেশ হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সাঈদ উজ্বল, সদস্যসচিব গোলাম মর্তুজা সেলিম, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সদস্যসচিব মাসুম মিয়া।