Published : 29 May 2026, 04:30 PM
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি-দলীয় প্রভাব চলবে না, এখানে সবচেয়ে যোগ্য শিক্ষককে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, “ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় শুধু চাকরির জায়গা নয়, এটা হবে বেস্ট যে মানুষ তার চাকরির জায়গা। এই কথাটা মনে রাখতে হবে।”
শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতীপাড়া এলাকায় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, “আমি এই কথাটা জোর দিয়ে বলছি এইজন্যে ইতিমধ্যে আমার ওপরেও অনেক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, হবেই পলিটিক্যাল লোক আমি, আমাদের ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ওপরেও চাপ সৃষ্টি হচ্ছে একে নিতে হবে ওকে নিতে হবে, এটা করতে হবে ওটা করতে হবে; কিন্তু এখানে ওটা চলবে না এবং চলতে দেওয়া উচিৎ না। বেছে বেছে সবচাইতে ভালো শিক্ষকদেরকে নিতে হবে।”
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ইস্রাফীলকে উদ্দেশ্য করে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক চাপ কখনই সৃষ্টি করবো না এবং কাউকে করতেও দিবো না। এই কথাটা মনে রেখে সকলকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যেকে আপনাকে সহযোগিতা করবে।”
তিনি বলেন, “এটা (ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়) ঠাকুরগাঁওয়ের গর্ব, গৌরব যে আমরা এখানে একটা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছি। সে বিশ্ববিদ্যালয়কে আমাদেরকে সঠিক জায়গায়, সঠিক ভাবে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে। এটা আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের যে স্বপ্ন, যে আকাঙ্ক্ষা এই বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হোক, যে প্রতিষ্ঠানে সবচাইতে মেধাবীরা এখানে কাজ করবে।”
সাবেক শিক্ষক ফখরুল বলেন, “এখানে দাতব্য চিকিৎসা করা হয় না, এটা উচ্চ শিক্ষার একটা জায়গা, এখানে সবচাইতে উচ্চ শিক্ষা প্রদান করতে হলে সবচেয়ে যোগ্য শিক্ষকদেরকেই নিয়োগ দিতে হবে। এই কথা শুনে অনেকেই মন খারাপ করতে পারেন, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এটাই।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচনের আগে তারেক রহমান সাহেব যখন ঠাকুরগাঁওয়ে আসলেন, সেসময় তার কাছে আমরা এলাকার কয়েকটা দাবি তুলে ধরেছিলাম, তারমধ্যে অন্যতম দাবি ছিল ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, তিনি এই দাবিটি মঞ্জুর করেছেন। সেই সঙ্গে আমরা এখানে একটা মেডিকেল কলেজ চেয়েছিলাম উনি মেডিকেল কলেজটাও মঞ্জুর করেছেন, সরকার গঠন করার পরে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দুটো উপজেলা চেয়েছিলাম সেই উপজেলা দুটোকেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঞ্জুর করে দিয়েছেন। আমি আজ আপনাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”
ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সুযোগ সবসময় আসে না, আজকে আমাদের এখানে একটা সুযোগ এসেছে, আমরা আমাদের বাকি যে কাজগুলো রয়েছে সেই কাজগুলো করার জন্যে সুযোগ পেয়েছি, দ্রুততার সঙ্গে সেই কাজগুলো যেন আমরা করতে পারি সেজন্য সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি।“
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ইস্রাফীল, জেলা প্রশাসক রফিকুল রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী।
এরপর ঠাকুরগাঁও শহরের রুহুল আমিন মিলনায়তে ঠাকুরগাঁও জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় মির্জা ফখরুল। এসময় সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।