১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

দেহটিও ফরিদপুর মেডিকেলে দান করে গেছেন বীর উত্তম সাহাবুদ্দিন, হস্তান্তর

২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে এসে সাহাবুদ্দিন আহমেদ তার দেহদানের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গিয়েছিলেন।

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Oct 2025, 03:08 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:30 PM

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য হাতে গোনা যে কয়জন বেসামরিক ব্যক্তি ‘বীর উত্তম’ খেতাব পেয়েছেন, তাদেরই একজন ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন আহমেদ। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার নিজের দেহটিও দান করে গেছেন দেশের চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষণার জন্য। 

তার সেই ইচ্ছা অনুযায়ী মরদেহটি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে তার ছেলে ক্যাপ্টেন তাপস আহম্মেদ। 

আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহটি গ্রহণ করে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ দিলরুবা জেবা বলেন, জাতির এই বীরসন্তানকে নিয়ে ফরিদপুরবাসী গর্বিত। তিনি দেশের জন্য তার দেহটিও দান করে গেলেন। এতে শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও অধ্যয়নে অনেক উপকারে আসবে। তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, ব্লাষ্ট ফরিদপুরের সমন্বয়ক ও মানবধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী, সাহাবুদ্দিনের পরিবারের অন্য সদস্যরা ।

এছাড়া ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শতাধিক শিক্ষার্থী এই বীরের দেহ গ্রহণ করতে ও তার প্রতি শ্রদ্ধা-কৃতজ্ঞতা জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে সাহাবুদ্দিন আহমেদ নিজেই তার দেহদানের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গিয়েছিলেন।

একাত্তরের আকাশযুদ্ধের অকুতোভয় যোদ্ধা, ঐতিহাসিক ‘অপারেশন কিলো ফ্লাইটের’ সদস্য ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন আহমেদ ছিলেন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একজন বৈমানিক। 

মুক্তিযুদ্ধে ৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে হেলিকপ্টার নিয়ে ঢাকার নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর জ্বালানি ডিপোতে এবং অটার দিয়ে চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের আরেক ডিপোতে আক্রমণ করেন বাংলাদেশের বিমান সেনারা। সেই অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন কিলো ফ্লাইট’।

ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন আহমেদ এবং তার সহযোদ্ধারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান বিমানবাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত করেছিলেন। তাদের আক্রমণের পর ভারতীয় বিমানবাহিনী বাংলাদেশের প্রধান প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে আক্রমণ শুরু করে।

৫ ডিসেম্বর বাংলার আকাশ পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়। সে সময় হেলিকপ্টার দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর উপর ৫০টি আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছিল, যার ১২টিতে অংশ নিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন আহমেদ। 

যুদ্ধ দিনের স্মৃতি স্মরণ করে ২০১৭ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সে সময় তার কোনো মৃত্যু ভয় ছিল না। কারণ নিরীহ মানুষকে রক্ষা করা আর ‘দেশ মা’-কে বাঁচানোই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

৭৭ বছর বয়সী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। 

সাহাবুউদ্দিন ফরিদপুর শহরের চরকমলাপুর মহল্লার গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদ ও লায়লী রশিদ দম্পতির সন্তান ছিলেন। তিনি স্ত্রী রোকেয়া নার্গিস, এক ছেলে ক্যাপ্টেন তাপস আহম্মেদ ও এক মেয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা শিপ্রা আহম্মেদসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। 

আগের সংবাদ 

ফিউনারেল প্যারেডে ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন আহমেদকে শেষ বিদায়

মুক্তিযুদ্ধের অপারেশন 'কিলো ফ্লাইটেরসদস্য ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন

একাত্তরের সম্মুখ সমরেমুক্ত আকাশের নিচে বিজয়ের আরো কাছে