Published : 12 Apr 2026, 09:12 PM
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় বেড়িবাঁধ থেকে শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে।
রোববার গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিস হায়দার খান বলেন, দুপুরে বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়। তারা গাছ কাটার সরঞ্জাম জব্দ করেছে এবং গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান আনিস।
পিঞ্জুরী ইউনিয়নের দেওপুরা গ্রামের সোনাখালী-দেওপুরা বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে গাছ কাটা হয়েছে। এ ঘটনায় পিঞ্জুরী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাইদ শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে।

দেওপুরা গ্রামের কৃষক রামজান আলী বলেন, পিঞ্জুরীসহ আশপাশের চার ইউনিয়নের ফসল রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। বাঁধটি টেকসই করতে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এদিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী সুজন ফকির বলেন, পিঞ্জুরী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাইদ শিকদারের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ১২৫টি গাছ কিনেছেন এবং গত দুই দিনে সেগুলো কেটে বাঁধের ওপর স্তূপ করে রেখেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবু সাইদ শিকদার বলেন, “আমার জায়গার ওপর দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এ বেড়িবাঁধে আমার অন্তত ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ওই জমির ক্ষতিপূরণের টাকা এখনো তুলিনি। এ ছাড়া ওই বাঁধে আমি গাছ লাগিয়েছিলাম। তাই আমি আমার রোপণ করা গাছ বিক্রি করেছি। ক্রেতা গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।”