Published : 30 Nov 2025, 10:14 PM
আবুল সরকারের গ্রেপ্তার ও দেশব্যাপী বাউলদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত হচ্ছে ‘বাউলের দ্রোহ’।
রোববার বিকাল ৫টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বরে এই বিশেষ আসর শুরু হয়।
আয়োজনে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘বিচার গান’ও থাকছে। এতে পাল্টাপাল্টি যুক্তি ও সুরের লড়াইয়ে অংশ নেবেন প্রখ্যাত বাউল শিল্পী লতা দেওয়ান ও নয়ন দেওয়ান।
‘বাউলের দ্রোহ’ এর অন্যতম আয়োজক নবীন কিশোর গোস্বামী বলেন, “আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীরা ‘বাউলের দ্রোহ’ নামে প্রতিবাদী গান ও বিচার গানের আসর আয়োজন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে দেশের প্রতি আমাদের কিছু দায়বদ্ধতা আছে বলেই আমরা মনে করি। চারদিকে যে অস্থিরতা ও অস্থিতিশীল অবস্থা তার বিরুদ্ধে আজকের এই প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক আয়োজন।”
তিনি বলেন, “আমাদের আয়োজনের উদ্দেশ্য বাউল পালাকার মহারাজ আবুল সরকারের মুক্তি। তাকে মুক্তির দাবিতে যেসব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হয়েছে সেগুলোতে ‘একটা একটা বাউল ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ এর মতো উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে মব তৈরি করা হচ্ছে। বাউলদের অনিরাপদ পরিবেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা বরাবরই গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ করে এসেছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।
“বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। এখানে বহু ধর্ম, বহু মত, বহু জাতির মানুষের বসবাস। প্রত্যেক মানুষেরই তাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে স্বাধীনভাবে চর্চা করার অধিকার থাকা উচিত।”
আয়োজনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ও ‘বাউলের দ্রোহ’ এর আরেক আয়োজক সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, “আজকের ‘বাউলের দ্রোহের’ মাধ্যমে আমরা একটা বার্তা দিতে চাই, বাংলার মাটি সব মত ও সব বিশ্বাসের মানুষের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের জায়গা। বাউল আবুল সরকারকে যে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।”

তিনি বলেন, “আবুল সরকারের যে ছোট্ট ক্লিপ ছড়ানো হয়েছে, সেটা তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিকৃত করে ছড়ানো হয়েছে। তিনি ওই অংশটি একজন পালাকার হিসেবে পরিবেশন করেছেন, ব্যক্তি আবুল হিসেবে কোনো মত প্রকাশ করেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা মিথ্যা ও বানোয়াট। একই সঙ্গে বাউলসহ সব ধরনের বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী মানুষ যেন সম্প্রীতির সঙ্গে বাস করতে পারে এই বার্তাটাও আমরা দিতে চাই।”
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক হাসান নাঈম বলেন, “বাংলাদেশে বা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যখনই কোনো সংখ্যালঘু বা ভিন্নমতের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন হয়, তখন ছাত্রদের মধ্যে তার প্রতিক্রিয়া আমরা দেখি। আজকের এই আয়োজনও তারই ফলশ্রুতি।
“আমরা দেখেছি, বাউল আবুল সরকারকে তার পালাগানের একটি অংশকে ব্লাসফেমির অভিযোগে দোষারোপ করে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পালার খণ্ডিত অংশ কেটে প্রচার করে এটিকে তথ্য সন্ত্রাসে পরিণত করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “পালাগান, বিচার গান, মহাজনী গান, মালজোড়া গান, কবিগান শত শত বছর ধরে বাংলায় চলছে। ‘জীব–পরম’-এর পালায় জীব প্রশ্ন করবে, সংশয় দেখাবে এটাই নিয়ম। পালায় দুই পালাকার তর্কের মধ্য দিয়ে সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই পালার খণ্ডিত অংশকে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে।”
‘বাউলের দ্রোহ’ আয়োজনে সংহতি জানিয়ে গান পরিবেশন করবেন বগা তালেব, আকাশ গায়েন, শাহ মুহাম্মদ শিপন, কমল কৃষ্ণ দাস, আবুল কালাম হাওলাদার, অভিবাদন দাস, অভিষেক রায় অর্চন, মো. ইমরান হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক ভাণ্ডারী, জয়িতা অর্পা, রহমান জনি, মাহাবুব খালাসী এবং নবীন কিশোর গোস্বামী।