Published : 08 Jan 2026, 11:53 AM
কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। কনকনে ঠান্ডা ও শীতল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
শীত নিবারণে দুঃস্থ মানুষজন খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। আর গৃহপালিত পশুদের ঠান্ডা থেকে রক্ষায় ব্যবহার করা হচ্ছে চটের বস্তা।
শীতের প্রভাবে চলতি মৌসুমে বোরো ধান রোপণও দেরি হচ্ছে। কৃষি শ্রমিকসহ অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের কাজের সংকট তৈরি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সকালে জেলায় সবনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ ভাগ।
কুড়িগ্রামে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে শীত ও ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে করে সাধারণ মানুষরা পরেছেন বিপাকে। ঠান্ডার কারণে শিশু এবং বৃদ্ধরা শীত জনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি। গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না। মাঝে মধ্যে সূর্য উকি দিলেও নেই উত্তাপ। তারপর কিছুক্ষণ পরেই সূর্য হারিয়ে যায় মেঘের আড়ালে।
এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের চর রাউলিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “খড়ের ঘরে থাকি রাইতে-দিনে বাতাস হুহু করে ঢুকে। মোক কাবু করছে।
“বউ বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্ট হইছে। হামরা গরীব মানুষ এতো ঠান্ডা হইলে বাচমো (বাঁচবো) কেমনে।”
নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা রিকশা চালক নুরুল হক বলেন, “ঠান্ডায় সকাল বেলা বের হতে পারি না। যাত্রীও কম। ফলে আয় রোজগার নাই।
“শীত আসলে আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।”

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কলেজ মোড়ের পান ব্যবসায়ী দুলুমিয়া বলছিলেন, “ঠান্ডার কারণে লোকজন নেই। তাই বেচাবিক্রিও নেই। খুব অভাবে দিন কাটাচ্ছি।
“আমার তো দোকান ঘর নেই। খোলা যায়গায় দোকান। হিমশীতল বাতাস আর কুয়াশার কারণে দোকান চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের মিনহাজুল কাজ করেন চায়ের দোকানে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় কাজে যেতে প্রতিদিন নাজেহাল হতে হয় তাকেও।
তনি বলেন, “এই ঠান্ডায় হামার চায়ের দোকানে কাজ করতে খুব কষ্ট লাগে। পানি নাড়ানাড়ি করা লাগে সব সময়। পানি তো সেই বরফের মতো ঠান্ডা। ঠান্ডায় হাত কাটি যায় অবস্থা।”
এদিকে গত কয়েক দিনে হাসপাতালগুলোতে সর্দি, কাশি, নিউমেনিয়া, আমাশয় ও ডাইরিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে।
“কিছু রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। আবার কিছু কিছু রোগী হাসপাতালের ভর্তি হচ্ছেন। গুরুত্বের সাথে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো চারা কুঁকড়ে যাচ্ছে এবং লালচে রঙ ধারণ করছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার কৃষক লাল মিয়া বলেন, “প্রচণ্ড ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশার কারণে বোরো চারা বড় হচ্ছে না। লালচে রঙ ধারন করছে আর কুঁকড়ে যাচ্ছে। ঠান্ডায় কৃষি শ্রমিকরাও কাজ করতে পারছে না। এসব কারণে বোরো চাষ বিঘ্নিত হচ্ছে।”
একই এলাকার কৃষক দুলাল মিয়া বলছিলেন, মোল্লা বিলে তার দুই বিঘা জমি। শৈত্যপ্রবাহের কারণে জমি তৈরি করতে পারেননি এখনো। এ কারণে বোরো রোপণ করতে বিলম্ব হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা খামার বাড়ির উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “তীব্র শীত আর কুয়াশার কারণে বোরোধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি ক্ষতি যেন কাটিয়ে উঠতে পারে।”
এদিকে কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকতা আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, নয়টি উপজেলায় শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে।